৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

a-samakal-61ca8c6c4acdc

চলতি শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হতে পারে।

সংগৃহীত

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ১ নভেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সময় ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার প্রকোপ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। ফলে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসের ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল রূপ নিয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে।

অক্টোবর মাসে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় কোথাও কোথাও বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ওই মাসের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।

Advertisements

এ ছাড়া অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ১৭ অক্টোবর সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ওই মাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৭ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

অক্টোবর মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে দেশের মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিভাগভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি এই আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরিতে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার পরিস্থিতি, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

Advertisements