পেছাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এসব ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মতি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে পরীক্ষা কত দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত’ ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যেন চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পেছানোর জন্য উপাচার্যদের প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী। প্রথম দিকে কয়েকজন উপাচার্য এ প্রস্তাবে আপত্তি জানালেও পরে তাঁরা প্রাথমিকভাবে সম্মতি দেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মেডিকেলসহ সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শুরুতে উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধের পর তারা সম্মতি প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরীক্ষা পেছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করবে। পরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এমন পরিস্থিতিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। প্রথমবারের মতো চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন করা হতে পারে। একই মাসের শেষ দিকে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে চলতি শিক্ষাবর্ষেই বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই ভর্তি পরীক্ষার সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর সারা দেশে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর পরদিন, ৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা।
এ ছাড়া ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং তাতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে এসব পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে নতুন সময়সূচি।



