অফিসে কাজের মাঝেই ঝিমুনি ভাব? এই সহজ কৌশলেই কাটবে ঘুম

সকাল থেকে বেশ মনোযোগ দিয়েই কাজ করছেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনোযোগ হারিয়ে যাচ্ছে, বারবার হাই উঠছে। এক কাপ চা বা কফি খেয়েও যেন ক্লান্তি কাটছে না। অফিসে কাজের ফাঁকে এমন ঝিমুনি ভাব অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা একঘেয়ে কাজের কারণে দিনের মাঝামাঝি সময়ে শরীর ও মনে ক্লান্তি ভর করতে পারে।
কাজের সময় ঘুম ঘুম ভাব শুধু কর্মক্ষমতাই কমায় না, ভুলের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে কর্মব্যস্ত দিনের মাঝেও সতেজ থাকা সম্ভব।
১. একটানা বসে না থেকে একটু হাঁটুন

দীর্ঘ সময় একই জায়গায় বসে কাজ করলে শরীর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এতে ক্লান্তি ও ঝিমুনি বাড়তে পারে। তাই প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর কয়েক মিনিটের জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। অফিসের ভেতর একটু হাঁটাহাঁটি করুন কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করে নিন। এতে শরীর সচল হবে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সুবিধা হবে।
২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় পানিশূন্যতার কারণেও কাজের মধ্যে ঝিমুনি আসে। তাই ডেস্কে পানির বোতল রাখুন এবং নিয়মিত পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. চোখকে দিন কিছুটা বিশ্রাম

একটানা কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি তৈরি হয়। এতে অস্বস্তি ও অবসাদ বাড়তে পারে। এ সমস্যা কমাতে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এতে চোখের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।
৪. হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খান

দুপুরে অতিরিক্ত ভারী খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই ঝিমুনি আসে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও পরিশোধিত শর্করাজাতীয় খাবার খেলে কারও কারও মধ্যে খাওয়ার পর ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম কিংবা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। বিকেলের নাশতায় ফল, বাদাম বা টক দই খেতে পারেন।
৫. কাজের ফাঁকে একটু প্রাকৃতিক আলো নিন
অন্ধকার বা কম আলোযুক্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করলে অনেকের ঝিমুনি বাড়তে পারে। সম্ভব হলে কিছুক্ষণের জন্য জানালার কাছে যান অথবা বাইরে প্রাকৃতিক আলোতে দাঁড়ান। দিনের আলো শরীরের স্বাভাবিক জাগরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তবে সরাসরি তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকার প্রয়োজন নেই।
৬. চা-কফি পান করুন পরিমিতভাবে
ঘুম তাড়াতে অনেকেই বারবার চা বা কফি পান করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় কিংবা রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণে সতর্ক থাকুন। মনে রাখতে হবে, চা-কফি পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নয়।
৭. কাজের ধরনে পরিবর্তন আনুন
একটানা একই ধরনের কাজ করতে থাকলে মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য আনুন। দীর্ঘ সময়ের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন। একটি কাজ শেষ করে কিছুক্ষণ অন্য ধরনের কাজে মনোযোগ দিন। এতে একঘেয়েমি কমবে এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বজায় রাখা সহজ হবে।
৮. সম্ভব হলে অল্প সময়ের ঘুম নিন
অফিসের পরিবেশ ও নিয়ম অনুমতি দিলে দুপুরে ১০ থেকে ২০ মিনিটের ছোট বিরতি বা ঘুম সতেজ হতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ঘুমালে ঘুম ভাঙার পর আরও বেশি ঝিমুনি আসতে পারে। তাই অল্প সময়ের বিশ্রাম নেওয়াই ভালো।
৯. রাতের ঘুম ঠিক রাখুন
দিনের বেলায় অফিসে ঝিমুনি আসার অন্যতম কারণ হতে পারে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, ক্যাফেইন গ্রহণ এবং ভারী খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
কখন সতর্ক হবেন?
সব সময় ঝিমুনি আসার পেছনে শুধু কাজের চাপ বা ঘুমের অভাব দায়ী নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও নিয়মিত দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া, কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করার পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়া, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে। এমন সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অফিসে কাজের সময় ঝিমুনি এলে শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর না করে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দিন। নিয়মিত পানি পান, অল্প হাঁটাহাঁটি, পুষ্টিকর খাবার, চোখের বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত রাতের ঘুম—এই ছোট ছোট অভ্যাসই কর্মদিবসে সতেজ থাকতে সাহায্য করতে পারে। মনে রাখবেন, ভালো কর্মক্ষমতার জন্য যেমন মনোযোগ প্রয়োজন, তেমনি শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি।



