Skip to content

১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রসূতি মায়ের ব্যায়াম

মাতৃত্ব যা একজন নারীকে পূর্ণাঙ্গ নারীত্বের স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে। মা হওয়ার জন্য একজন নারীর শরীর তৈরি হতে থাকে সেই কৈশোর থেকে। নিজের শরীরে আরেকটি শরীর ধারণ করা তাও এক নয়, দুই নয়, নয়টি মাস ধরে এ কম কথা তো নয়। চারদিনের ব্যথা সহ্য করতে না পারা মেয়েটিও মা হওয়ার আনন্দে সহ্য করে নেয় সকল প্রসব বেদনা এবং নয় মাস একটা শরীর বেড়ে উঠার দরুন তার শরীরে ঘটতে থাকা সকল অস্বাভাবিকতা।
গর্ভাবস্থায় শিশুর পুষ্টির কথা চিন্তা করে মায়েদের প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই খেতে হয়। তাছাড়া কোনো ধরনের ভারি কাজ করা যায় না এবং প্রচুর বিশ্রামের মাঝে থাকতে হয় বলে মায়েরা একটু মুটিয়ে যান। তাই এই সময় কিছু ব্যায়াম যেমন মায়েদের শরীর ভালো রাখে, তেমনি সন্তানকেও ভালো রাখে এবং সুস্থ রাখে, এবং ডেলিভারির ক্ষেত্রেও সাহায্য করে থাকে। 
তবে ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে এই অবস্থায় মায়েদের কিছু ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত ব্যায়াম করে কিন্তু শরীরকে পরিশ্রান্ত করা যাবে না। বরং রিল্যাক্সিংয়ের জন্যেই ব্যায়ামটা করতে হবে। ব্যায়াম করার জন্য এমন আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করতে হবে, যাতে রক্তসঞ্চালন সহজ থাকে। নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ বেছে নিতে হবে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা দুটোই শিশুর জন্য ক্ষতিকর। জুতো পরার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে, উঁচু জুতো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ব্যায়াম শুরুর আগে হাতপা স্ট্রেচ করে নিতে হবে, নতুবা হুট করে ব্যায়াম শুরু করলে হিতেবিপরীত হতে পারে। কী ধরনের ব্যায়াম করা যেতে পারে, তা নিচে দেওয়া হলো : 
১. প্রথমদিকে শরীর ওয়ার্মআপ করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে মাথা বাম-ডানে দশবার, উপর নিচে দশবার করে ঘোরাতে হবে, তারপর মাথা ঘোরাতে হবে উভয় দিকে, ঘড়ির দিকে এবং ঘড়ির বিপরীত দিকে দশবার করে হাত এবং তারপর কাঁধ ঘোরাতে হবে। 
২. এই ব্যায়ামটা পুরো গর্ভাবস্থার সময় করলে পেশি খুব মজবুত হয়। এক্ষেত্রে সোজা হয়ে বসে ডান পা ভেতরের দিকে নিয়ে বাম পা সোজা রেখে বাম হাত দিয়ে ধরতে হবে। এবার ডান হাত মাথার উপর দিয়ে উঠিয়ে বাম পা ধরার চেষ্টা করতে হবে। এটি উভয়ভাবেই করা যায়। এটি সর্বোচ্চ ১০-২৫ সেকেন্ডের মতো করা যাবে এবং তিনবারের বেশি করা যাবে না।


৩. এবার দুই পা ছড়িয়ে নিয়ে ডান পায়ের আঙুলগুলো ডানদিকে ঘুরিয়ে নিতে হবে। এবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ডান হাঁটু ভাঁজ করতে হবে। এবার ডান হাত দিয়ে ডান পা ধরে বাম পা উপরের দিকে তুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নজরও উপরের দিকে রাখতে হবে। এই ব্যায়াম ১০-২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত করা যেতে পারে। এই ব্যায়াম করলে স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 
৪. এই ব্যায়ামের জন্য প্রথমে হাঁটু ভাঁজ করে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে। তারপর কোমরে হাত দিয়ে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে মাথা পিছনের দিকে নিতে হবে এবং পাঁচ সেকেন্ড পর শ্বাস নিতে নিতে মাথা সামনের দিকে আগাতে হবে। এই ব্যায়াম তিনবার করা যাবে। এরফলে শিশুর হৃদয় ভালো থাকে সাথে মায়েরও। 
৫। এই ব্যায়ামটি খুবই সহজ। এজন্য প্রথমে একপাশ হয়ে শুতে হবে তারপর একহাত মাথার নিচে রাখতে হবে। এবার অন্য হাত দিয়ে মাটিতে ভর দিয়ে একপা উপরের দিকে উঠাতে হবে এবং নামাতে হবে। এটি ১০ থেকে ২০বার করা যাবে। অন্য পা দিয়েও করতে হবে। 
প্রসূতি অবস্থায় মায়েদের শুধু যে রিফ্রেশ করে তা নয় বরং শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করে।