Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে করণীয়

নিজের ক্যারিয়ারে সফল হতে কে না চায়।  কিন্তু দিনশেষে সফলতা নামের সেই সোনার হরিণের দেখা ক’জনইবা পায়। সবধরনের কর্মক্ষেত্রেই  থাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করলে চ্যালেঞ্জগুলোকে অনেকটা বেশিই কঠিন মনে হয়। কিন্তু কিছু বিশেষ গুণাবলি আয়ত্ত করে সেসমস্ত  চ্যালেঞ্জগুলো পার করে কর্মক্ষেত্রে হয়ে ওঠা সম্ভব সেরার সেরা। চলুন তাহলে একটু চোখ বুলিয়ে নেই,  কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার সে গুনগুলোর দিকে- 

 

 

পরিকল্পনা মাফিক কাজ করুন

অগোছালো কাজ কখনো সফলতার ধারে কাছেও পৌছতে পারেনা। সফলতার জন্য আপনাকে সর্বদা গুছিয়ে কাজ করতে হবে। গুছিয়ে কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ছকে বাঁধা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে।  এক্ষেত্রে প্রথমেই একটি রুটিন  তৈরি করে নিতে পারেন।  কোন দিন কোন কাজ করবেন, কতটুকু করবেন পুরোটা লিপিবদ্ধ করে রাখুন। আগের দিন অফিস থেকে বের হওয়ার সময়েই পরের দিন কি করবেন তা ঠিক করে রাখুন। এতে পরদিন অফিসে এসে কি কাজ করবেন এ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। পরিকল্পনা-মাফিক কাজ করতে পারলে আপনি কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন।

 

কাজের প্রতি আন্তরিক হোন

যে ধরনের কাজই হোক না কেন কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকতে হবে। কাজের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ দিতে হবে। আপনি কি কাজ করছেন,  কিভাবে করছেন,  এর ফলাফল প্রত্যেক বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ দিলে আপনার কাজের প্রতিটি বিষয় আপনার নজরে থাকবে এতে করে কাজে ভুল করার সম্ভাবনাও অনেকাংশে কমে যাবে। কাজ পেলেন আর কোন মতে দায়সারা  ভাবে করে দিলেন, তাতে আপনার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মাবে না। আর এক্ষেত্রে সফলতা অর্জনও খুবই কঠিন। আপনার কাছ থেকে ঠিক কি চাওয়া হচ্ছে এটা খুব ভালো ভাবে বোঝার চেষ্টা করুন,এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য যথাযথ ভাবে নিজের কাজ বুঝে নেয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মগুলো সুন্দর ভাবে মানার কোনও বিকল্প নেই।

 

নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন

আপনাকে যেই কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে,  শুধু মাত্র সেই কাজের মধ্যেই যে আপনাকে সীমাবদ্ধ রাখা হবে তেমন নয়। প্রতিটি বিষয়ই দিন দিন আপডেট হচ্ছে। তাই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আপনাকে  নিজেকেও আপডেট করতে হবে, এতে করে কর্মক্ষেত্রে আপনি অনেকটা এগিয়ে যাবেন। সর্বদা নতুন কিছু জানার ও শেখার চেষ্টা করুন। আপনি যদি একজন ইঞ্জিনিয়ার হন, তবে প্রতিদিন এ বিষয়ে কিছু না কিছু পড়ার চেষ্টা করুন। অ্যাকাউন্টেন্ট, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী,  যেটাই হোন না কেন সে বিষয় নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করুন।

 

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়িয়ে তুলুন

'কমিউনিকেশন স্কিল বা যোগাযোগ দক্ষতা' কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার প্রধান চাবিকাঠি বলা যায়। আপনার যে ধরনের পেশাই হোক না কেন এ বিষয়ে দক্ষ হতেই হবে। তাই আপনাকে প্রতিনিয়ত শিখতে হবে কিভাবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে ওঠা যায়। আপনার যোগাযোগ দক্ষতাই প্রকাশ করবে আপনার ব্যক্তিত্ব এবং রুচিবোধ। এক্ষেত্রে আপনার বাচনভঙ্গিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অঙ্গভঙ্গি যেন অন্যকে বিরক্ত না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। শুধু সামনাসামনি যোগাযোগ নয়, যোগাযোগের যেকোনো ক্ষেত্রেই চাই পূর্ণ দক্ষতা। বর্তমানে করপোরেট সেক্টরে যোগাযোগের বেশিরভাগই হয় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা চাই পুরোপুরি। সঠিক ও কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা আপনাকে নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের উচ্চশিখরে। 

 

সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন

আপনি অফিসে গিয়ে গম্ভীর হয়ে বসে আপনার কাজ সারলেন, কাজ শেষে বাসায় ফিরে আসলেন।  এতে করে আপনার সহকর্মীদের মনে আপনাকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে।  সব সময়ে গম্ভীর হয়ে থাকলে অন্যরাও আপনার কাছে ঘেঁষতে চাইবে না। তাই সবসময় হাসিখুশি থাকুন,  সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন।  আপনার অফিসের সিইও থেকে দারোয়ান সবাইকে সম্মান করুন এবং সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার প্রতি সবার ভালো ধারনা জন্মাবে। প্রয়োজনে সহকর্মীদের থেকে যেকোনো কাজের ব্যাপারে সাহায্য চাইতে শিখুন, সিনিয়রদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন। 

 

কর্মক্ষেত্রে এসব দক্ষতায় তুখোড় না হলে ছিটকে পড়তে হবে প্রতিনিয়ত চলমান প্রতিযোগিতা থেকে। তাই সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে, এবং সব সময়ে নিজেকে আরও দক্ষ ও উন্নত করার চেষ্টা করে  কর্মক্ষেত্রে সহজেই জয় করতে পারবেন  সফলতা। 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ