Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতিমা দেবী : অবিস্মরণীয় নারী

রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য ও সাহচর্যে যেসব নারী দীপিত হয়ে উঠেছিলেন, প্রতিমা দেবী (৫.১১.১৮৯৩-৯.১.১৯৬৯) তাদের মধ্যে বিশেষ একজন। সম্পর্কের দিক থেকে একদিকে তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের পৌত্রী, অন্যদিক থেকে কবিপুত্র রথীন্দ্র নাথের স্ত্রী বিধায় তার পুত্রবধূ।
পাঁচ ও ছয় নম্বর বাড়ি মিলিয়ে জোড়াসাঁকোর যে ঠাকুর পরিবার, প্রতিমা দেবী ছিলেন সেখানকার পাঁচ নম্বর জোড়াসাঁকোর মেয়ে। সম্পর্কের দিক দিয়ে তিনি অবনীন্দ্রনাথ-গগনেন্দ্রনাথের ভাগ্নি। তার মা বিনয়নী দেবী অবনীন্দ্র নাথদের বোন। প্রতিমা দেবীর পিতার নাম ছিল শেষেন্দ্র ভূষণ চট্টোপাধ্যায়। ঘরজামাই থাকতেন অবনীন্দ্র পরিবারে, ঠাকুরবাড়ির নীতি-নিয়ম অনুযায়ী।
প্রতিমা দেবী যে বিংশ শতাব্দীর এক বিশিষ্ট ও অনন্যা নারী, নিজ পরিচয়েই যিনি খ্যাতকীর্তি, আমরা এখন তা জানার চেষ্টা করব।
সারস্বত অঙ্গনের নানাদিকেই ছিল তাঁর প্রচারণা। অথচ তাঁর প্রথম জীবন ছিল যেমন অবরোধবাসে, তেমনি বিধুরতাময়। ৬ নম্বর ঠাকুরবাড়ির লোকেরা ছিলেন ব্রাহ্ম। সেজন্য সে বাড়িতে মেয়েরা পড়াশুনো শেখার, স্কুল-কলেজে পড়ার সুযোগ পেতেন। অন্যদিকে ৫ নম্বর জোঁড়াসাকো বাড়ির মেয়েরা বিয়ের আগে পর্যন্ত অন্দরেই বাস করতেন। সনাতন হিন্দুধর্ম-আশ্রিত সে বাড়িতে বিদ্যাশিক্ষার অবকাশ রাখা হয়নি, আর দ্রুত তাদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে ঘর-কন্নার কাজে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
প্রতিমা দেবীকেও মাত্র দশ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নে ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে তাঁর সহপাঠী নীরদ নাথ মুখোপাধ্যায়ের কনিষ্ঠপুত্র নীলানাথের সঙ্গে। বিয়ের মাত্র দুমাসের মাথায় নীলানাথ-প্রতিমা তাদের বাড়ির অন্যান্য লোকজনের সঙ্গে গঙ্গার ধারে যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের বাগানবাড়ি ‘সুরধুনী-তে বেড়াতে গিয়ে নিকটের গঙ্গায় সাঁতার শেখার সময় জলে ডুবে মারা যান। সে-বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দেবী এই মর্মান্তিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৯০৩ সালের ঘটনা এসব। তাঁর জীবন সাময়িকভাবে বেদনাবিধুর হয়ে উঠল এভাবে। দিন কাটতে লাগল পিতৃগৃহে, কেননা শ্বশুর বাড়িতে সেই দশমবর্ষীয়া বালিকাটির আর স্থান হয়নি, অপয়া অভিধা দিয়ে যখন তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো বাপের বাড়িতে।
প্রতিমা দেবী যখন চার-পাঁচ বছরের, তখনই তাকে দেখে রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর ইচ্ছে ছিল, রথীন্দ্রনাথের সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রতিমার বিয়ে দেবার। মৃণালিনী প্রয়াত হন ১৯০২-তে, রথীন্দ্রনাথ তখন পনেরো বছরের। প্রতিমার বাবা-মার সায় ছিল মৃণালিনী দেবীর ইচ্ছেকে মর্যাদা  দেবার, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ অতো অল্প বযসে রথীন্দ্রনাথের বিয়েতে মত দিতে পারেননি বলেই প্রতিমার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়।
১৯০৯-এ রথীন্দ্রনাথ আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে   কৃষিবিদ্যার পাঠ নিয়ে ফিরে এলে রবীন্দ্রনাথ উদ্যোগ নেন প্রতিমার সঙ্গে রথীন্দ্রনাথের বিয়ে দেবার। ঠাকুর বাড়িতে এর আগে কোনো বিধবাবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি বিধবা বিবাহ দমন করার ইতিহাসও আছে সে বাড়িতে। রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠাগ্রজ বীরেন্দ্রনাথের পুত্র বলেন্দ্রনাথ যখন মাত্র ২৯ বছর বয়সে সেকালের অনারোগ্য রোগযন্ত্রণায় মারা যান, তাঁর স্ত্রী সাহানা দেবীর পুনর্বিবাহের প্রয়াস নিয়েছিলেন সাহানার পরিবার। বলেন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় ১৮৯৯-তে, দেবেন্দ্রনাথ তখন বেঁচে। আদি ব্রাহ্মসমাজের সর্বমান্য নেতা তিনি। সেখানে বিধবাবিবাহ নিষেধ ছিল বলে দেবেন্দ্রনাথ তাঁর পুত্র রবীন্দ্রনাথকে এলাহাবাদে পাঠিয়েছিলেন সাহানা দেবীকে সেখানে তার পিতৃ-আবাস থেকে জোড়াসাঁকোতে নিয়ে আ্সতে। বিধবার ব্যর্থ জীবন কাটাতে হয় সাহানাকে আজীবন, যদিও তাঁর শাশুড়ির লেখা থেকে জানা যায় (বলেন্দ্রনাথের মাতা প্রফুল্লময়ীর স্মৃতিকথা), সাহানা কী এক ট্রেনিং নিতে একবার বিলেতেও গিয়েছিলেন।
১৯০৫-এ দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যু। রবীন্দ্রনাথ তাই সফল হতে পেরেছিলেন ঠাকুরবাড়িতে প্রথমবারের মতো বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠান সফল করতে। ২৭শে জানুয়ারি ১৯১০-এ বিয়ে হয় দুজনের। প্রতিমার জীবনের গতিধারাই পাল্টে যায় এই বিয়ের ফলে। লেখাপড়া না-জানা প্রতিমার জন্য মেম-সাহেব-শিক্ষয়িত্রী নিযুক্ত হন মিস বুর্ডেট। তাছাড়া প্রতিমার শিক্ষাদাতা যেমন ছিলেন অজিতকুমার চক্রবর্তী, তেমনি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। প্রতিমা দেবী তাঁর সুদীর্ঘ জীবনে নানাবিধ কৃর্তির দ্বারা তাঁর এই শিক্ষাদানকে কাজে লাগিয়ে গিয়েছেন। নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর পরশপাথর। মেয়েদের মধ্যে যে স্বাভাবিক সৌন্দর্য চেতনা রয়েছে, তার বহুমুখী বিকাশ আমরা প্রতিমা দেবীর জীবনব্যাপী সাধনা ও জীবনাচরণে লক্ষ্য করি।
বিয়ের পর প্রতিমা দেবী কখনো শান্তিনিকেতন, কখনো শিলাইদহে যেখানেই থেকেছেন, কবির যত্নপরতা ছিল প্রতিমাকে নানাবিষয়ে শিক্ষিত করে তুলতে। মাঝে মাঝে তিনি নিজেও তাঁকে পাঠদান করতেন। মিস বুর্ডেট তাঁকে ইংরেজি শেখাতেন যেমন, তেমনি সেলাই। প্রতিমা দেবী তাঁর বৈধব্যজীবনে পিতৃগৃহে দেখেছিলেন তাঁর মাসি সুনয়নী দেবীর ছবি আঁকা এবং ডিকশনারি দেখে দেখে ইংরেজি পড়া, সেতারবাদন। প্রতিমা তাঁর ‘স্মৃতিচিত্র’ গ্রন্থে লিখছেন, ‘মাসি তখন আপনমনে ইংরেজি ডিকশনারি নিয়ে পড়াশোনা করতেন।’ রবীন্দ্রনাথের গৃহে এসে তিনি নিজে যে লেখাপড়ার সুযোগ পেলেন, তাকে পুরোপুরি কাজে লাগালেন। বিয়ের পরপরই ১৯১২-তে রবীন্দ্রনাথ যখন ইংল্যান্ড ও আমেরিকা যান, রথীন্দ্রনাথ ও প্রতিমা দেবীও সঙ্গী হন তাঁর। বৃহত্তর পৃথিবী একইভাবে উন্মুক্ত হয়ে গেল প্রতিমার কাছে। এ সময়েও প্রতিমা ইংরেজি শেখা ও পুষ্পসজ্জাবিদ্যা শিখতে মনোযোগী ছিলেন। শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে তিনি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বহু নাটক অভিনয় করিয়েছেন। কেবলমাত্র মেয়েদের অভিনয়-উপযোগী নাটক লেখার উপরোধ জানান তিনি কবিকে, এবং এইভাবে রচিত হলো ‘লক্ষ্মীর পরীক্ষা’। অভিনয় শেখানোর পাশাপাশি অভিনেতাদের সাজগোজ আর মঞ্চসজ্জার দায়িত্বও তিনি নিতেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার, রবীন্দ্রনাথ তাঁর নৃত্যনাট্যগুলোতে নৃত্যের সুচারু ব্যবহার, নৃত্য প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা ভাবেনই নি। প্রতিমা দেবীর অঙ্গনে এইখানে যে তিনিই প্রথম রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যসমূহের নিবিড় নৃত্যমুদ্রা উদ্ভাবন করে পরিবেশন করেন। তার ইচ্ছে ছিল, রবীন্দ্র সংগীতের স্মরলিপির মতো করে রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যেরও ‘নৃত্যলিপি’ প্রস্তুত করেন। আজ যে শান্তি নিকেতন, কলকাতা, ঢাকা বা অন্যত্র আমরা মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যগুলো দেখে তার নান্দনিককতায় আপ্লুত হই, তার পেছনে প্রতিমা দেবীর রবীন্দ্রনৃত্যের প্রায়োগিক ভাবনা একান্ত রূপেই দায়ী। তিনি এ-বিষয়ে বইও লিখেছেন ‘নৃত্য’, নাম দিয়ে। তাছাড়া ১৯২০-তে বিলেতের উইগমোর হলে রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত পাঁচটি নাট্যকবিতার যে অভিনয় হয়েছিল, সেখানকার মঞ্চ-সজ্জার ভার নিয়েছিলেন প্রতিমা। এরপর কবি ফ্রান্সে এলে প্রতিমা দেবীকে আদ্রে কার্পেলেমের কাছে সেরামিক পেইন্টিং, জাভাদেশীয় বাটিক ও ফ্রেসেকা আঁকার পদ্ধতি শেখার ব্যবস্থা করেন। পরে শান্তিনিকেতনের কলা ভবনে তিনি ছাত্রছাত্রীদের এসব শেখাতেন।
এইভাবে নৃত্য পরিকল্পনা, ছবিআঁকা, শান্তিনিকেতনে আগত অতিথিদের সেবা করা, লেখালেখি ও আশ্রম বালক-বালিকাদের যত্ন নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন কাটতে থাকে। এর পাশাপাশি চলে তাঁর লেখালেখি, খুব বেশি যে লিখেছেন তিনি তা নয়, তবে তাঁর হাত দিয়ে সার্থক গল্প-কবিতাও বেরিয়েছে, যা প্রকাশিত হতো সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা ‘প্রবাসী’-তে। শান্তিনিকেতন থেকে প্রকাশিত মেয়েদের ঘরোয়া পত্রিকা ‘শ্রেয়সী’-তে তাঁর করা অনুবাদ বেরোয় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের লেখা।
রবীন্দ্রজীবনের শেষদিকের কথা নিয়ে অনবদ্য বই রয়েছে তাঁর, ‘নির্বাণ’। তাঁর জীবনের একেবারে অন্তিম মুহূর্তের কথা প্রত্যক্ষদর্শীয় জবানিতে সেখানে পাই আমরা।


কবির সঙ্গে দেশে-বিদেশে গেছেন যেমন, ঠিক তেমনি দুজনে যখন একে-অপরের থেকে দূরে, কবি চিঠি লিখেছেন তাঁকে। দেড়শোরও ওপরে চিঠি আছে কবির, প্রতিমা দেবীকে লেখা। সে-চিঠির মধ্যে যেমন আছে কবির স্বভাবজাত হাস্যরস, তেমনি রয়েছে সংসারে চলার পথে বার্তা, নির্দেশ। শান্তিনিকেতনে কবি প্রথমবারের মতো বৃক্ষরোপণ উৎসব পালন করেছেন, সে-কথা জানাচ্ছেন পুত্রবধূকে। আশ্রমের কাজে কীভাবে নিয়োজিত হতে হয় মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে, চিঠিতে সেকথাও জানাচ্ছেন, আবার অন্যকে লেখা কবির চিঠি পড়ে জানতে পারি, প্রতিমা দেবী যখন বাইরে কোথাও বেড়াতে যেতেন কিছুদিনের জন্য, কতখানি অসহায় লাগত তাঁর নিজেকে। ১৯৩৫ সালে একটি চিঠিতে কবি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ইন্দিরা দেবীকে লিখছেন, ‘বৌমা চলে গেলে দিনগুলো শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ভালো লাগে না। তিনি থাকলেও দেখাশুনা বেশি হয় না, তবু তার প্রভাবটা থাকে হাওয়ায়।’
প্রতিমা দেবী ছিলেন নিঃসন্তান। গুজরাট থেকে বেড়াতে আসা চতুর্ভুজ দামোদরের কন্যাকে দত্তক নেন তাঁরা। রবীন্দ্রনাথের আদরের সেই মেয়েটির নাম ছিল নন্দিনী। কবি তাঁকে পুপে, পুষু ইত্যাদি বিচিত্র নামে ডাকতেন। ১৯৩৯-এ পুপের সাড়ম্বরে বিয়ে হয় বিখ্যাত শিল্পপতি আজতসিং মোরারজি খাপউ-এর সঙ্গে। বিয়েতে সানাই বাজিয়েছিলেন আলী হোসেন। রবীন্দ্রনাথ এ-উপলক্ষে তিনটি গান লেখেন। এ-বিয়ে অবশ্য সুখের হয়নি। বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় ওঁদের। নন্দিনী পরে বিয়ে করেন গুজরাটি দন্ত চিকিৎসক গিরিধারী লালাকে। এ-বিয়ে স্থায়ী হয়েছিল। নন্দিনী-গিরিধারী একই সঙ্গে পড়তেন শান্তিনিকেতনে। বিয়ের পরেও তাঁরা শান্তিনিকেতনেই থাকতেন।
প্রতিমাদেবীর জীবন পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, তাঁর ছিল সুনিবিড় এক সৌন্দর্য চেতনা, যা তাঁর সমগ্র কর্মপ্রবাহেরই চালিকাশক্তি ছিল। শৈশবে অবনীন্দ্র নাথদের গৃহের সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং রথীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিবাহসূত্রে রবীন্দ্র নাথের স্নেহ লাভের সৌভাগ্যকে তিনি পরিপূর্ণ মাত্রায় কাজে লাগিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের একাকিত্বও প্রতিমাদেবীর সাহচর্যে হতো এবং এর ফলে কবির পরিচর্যা হতে পারত যথাযথ।
রবীন্দ্রনাথ যখন ১৯৩৯-এ কালিম্বয় গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, দার্জিলিং থেকে বিলেতি ডাক্তার এসে কবিকে দ্রুত অপারেশন করতে চাইলে প্রতিমাদেবী সে হঠকারিতা প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের সঙ্গে রুখে দিয়েছিলেন।
১৯৪১, রবীন্দ্রনাথ জোড়াসাঁকোতে, অপারেশনের পূর্বমুহূর্ত। এমন সময় শান্তিনিকেতন থেকে চিঠি এলো প্রতিমা দেবীর। শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে তিনি কবির সঙ্গে আসতে পারেননি কলকাতায়। এসেছিলেন অপারেশনের পরে।
ডা. বিধান চন্দ্র রায়কে অস্ত্রোপচার খানিকক্ষণের জন্য স্থগিত রাখতে বলে তিনি প্রতিমাদেবীকে চিঠির ডিকটেশন দিলেন, রানী চন্দ লিখে নিলেন তা। অবশেষে কাঁপা হাতে দস্তখত করলেন কবি। জীবনের শেষ চিঠি তাঁর। শিখিয়ে গেলেন কর্তব্যপরায়ণতা।
গত ৯-০১-২০১৯-এ গেল প্রতিমাদেবীর মৃত্যুশতবর্ষ। তাঁকে প্রণাম।