টোকায় টোকায় হাসির দিন

দরজায় টোকা পড়লো। ভেতর থেকে প্রশ্ন এলো, ‘কে?’ ব্যস, এই প্রশ্নের উত্তরেই শুরু হতে পারে হাসির হুল্লোড়! কখনও শব্দের খেলা, কখনও অপ্রত্যাশিত উত্তর, আবার কখনও এমন বোকা বোকা রসিকতা যে হাসি চেপে রাখাই দায়। এমনই মজার কৌতুকের জন্য প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় ‘নক নক কৌতুক দিবস’।
নাম শুনেই বোঝা যায়, এই কৌতুকের শুরুটা দরজায় টোকা দেওয়ার ভঙ্গিতে। একজন বলেন, ‘নক নক’, অর্থাৎ দরজায় টোকা পড়েছে। অন্যজন জানতে চান, ‘কে?’ এরপর নাম বা শব্দকে ঘিরে শুরু হয় মজার কথোপকথন। ইংরেজি ভাষায় এই কৌতুকের অনেকগুলিই শব্দের দ্ব্যর্থতা বা ধ্বনির মিলের ওপর নির্ভর করে। তাই সব কৌতুক বাংলায় অনুবাদ করলে অবশ্য একই রকম হাসি নাও আসতে পারে। তবু প্রশ্ন-উত্তরের এই সহজ ছন্দ ছোট-বড় সবার মন ভালো করার ক্ষমতা রাখে।
কৌতুকের শুরু কোথায়?
বিংশ শতাব্দীতে এই নক নক কৌতুকের পরিচিত ধরনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে এই ধরনের কৌতুকের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরে ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে তা বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রথম দিকে বড়দের মধ্যে প্রচলিত থাকলেও, পঞ্চাশের দশকে শিশুদের মধ্যেও এই কৌতুকের জনপ্রিয়তা বাড়ে। সহজ প্রশ্ন, মজার উত্তর আর শব্দ নিয়ে খেলার কৌশল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে আনন্দ দিয়ে চলেছে।
জাতীয় নক নক কৌতুক দিবস সেই হাসির ঐতিহ্যকেই উদ্যাপন করে। জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নানা চিন্তার মধ্যে একটু হাসির অবকাশ তৈরি করাই এই দিনের মূল কথা। কারণ, কাউকে হাসাতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনও একটি ছোট্ট কৌতুকই বদলে দিতে পারে মন-মেজাজ।
হাসির আসর বসুক ঘরে ঘরে
দিনটি পালন করতে বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসে যেতে পারেন কৌতুকের আসরে। প্রত্যেকে পালা করে নিজের পছন্দের কৌতুক শোনাবেন। কে সবচেয়ে বেশি হাসাতে পারেন, তা নিয়ে হতে পারে মজার প্রতিযোগিতাও। কৌতুকের ভান্ডার ফুরিয়ে গেলে পুরনো কৌতুককেই নতুন ভঙ্গিতে বলার চেষ্টা করুন। হাসির মাত্রা যে তাতে আরও বাড়তে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
চাইলে পছন্দের কৌতুক লিখে তৈরি করতে পারেন ছোট্ট একটি কৌতুকের খাতা। প্রিয়জনের মন খারাপ থাকলে তাকে শোনাতে পারেন মজার কোনও কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের পছন্দের কৌতুকের ভিডিও ভাগ করে নিতে পারেন বন্ধুদের সঙ্গে। তাতে আরও অনেকের মুখে হাসি ফুটতে পারে।
তবে কৌতুক যেন কাউকে অপমান বা বিব্রত করার কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। হাসির আনন্দ তখনই পূর্ণ হয়, যখন সবাই মিলে হাসা যায়, কাউকে নিয়ে নয়। তাই ৩১ অক্টোবর দরজায় টোকা দিয়ে শুরু হোক হাসির গল্প। কে জানে, দরজার ওপাশে হয়তো অপেক্ষা করছে একরাশ আনন্দ!



