৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

নব্বইয়ের দশকের শিশুদের আতঙ্ক, সেই সুন্দরী ডাইনির কথা কি মনে আছে?

নব্বইয়ের দশকের শিশুদের আতঙ্ক, সেই সুন্দরী ডাইনির কথা কি মনে আছে?

নব্বইয়ের দশকের শিশুদের কাছে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা কিছু চরিত্র ছিল একই সঙ্গে বিস্ময়, কৌতূহল আর ভয়ের উৎস। রূপকথা, জাদু, রহস্য আর অলৌকিক সব ঘটনা নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আলিফ লায়লা’ ছিল সেই সময়ের অন্যতম আকর্ষণ। রাজা-বাদশাহ, রাজকন্যা, দৈত্য-দানব আর জাদুকরদের গল্পের ভিড়ে এমন এক চরিত্র ছিল, যার কথা মনে পড়লে আজও অনেকের শৈশবের ভয় ফিরে আসে। সে হলো সুন্দরী অথচ ভয়ংকর ডাইনি সোফানিসবা।

রূপকথার জগতে রহস্যময় এক চরিত্র

‘আলিফ লায়লা’ ছিল আরব্য রজনীর নানা গল্প অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় একটি ফ্যান্টাসি ধারাবাহিক। প্রতিটি পর্বেই থাকত নতুন রহস্য, জাদু, অভিশাপ, রাজ্য দখলের ষড়যন্ত্র কিংবা অদ্ভুত সব অলৌকিক ঘটনা। কখনো দর্শকেরা চলে যেতেন অচেনা কোনো রাজ্যে, কখনো দেখা মিলত অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী জাদুকর কিংবা ভয়ংকর সব প্রাণীর।

সে সময় বিনোদনের মাধ্যম ছিল সীমিত। ইন্টারনেট কিংবা স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ছিল না। টেলিভিশনে পছন্দের অনুষ্ঠান দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় থাকত শিশুরা। পরিবারের সবাই মিলে টিভির সামনে বসে ধারাবাহিক দেখার আনন্দও ছিল অন্য রকম। তাই ‘আলিফ লায়লা’ কেবল একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছিল না, বরং ছিল কল্পনা আর রোমাঞ্চে ভরা এক জগৎ।

সৌন্দর্যের আড়ালে ভয়ংকর এক ডাইনি

‘আলিফ লায়লা’র অসংখ্য চরিত্রের মধ্যে সোফানিসবা, যিনি সারারা গুল নামেও পরিচিত, ছিলেন বেশ আলাদা। তার রূপ ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক রহস্যময় ও ভয়ংকর সত্তা। পর্দায় তার উপস্থিতি, চোখেমুখের অভিব্যক্তি আর অদ্ভুত আচরণ শিশুদের মনে তৈরি করত একধরনের আতঙ্ক।

Advertisements

রূপকথার গল্পে সুন্দরী নারীদের সাধারণত ভালোবাসা, কোমলতা কিংবা মায়ার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু সোফানিসবা যেন সেই পরিচিত ধারণার বিপরীত। তার সৌন্দর্য দর্শকদের আকৃষ্ট করত, আবার তার রহস্যময় উপস্থিতি মনে জাগাত ভয়। ফলে চরিত্রটি একই সঙ্গে ছিল আকর্ষণীয় ও ভীতিকর।

টেলিভিশন বন্ধ হলেও কাটত না ভয়

ধারাবাহিকের পর্ব শেষ হয়ে গেলেও অনেক শিশুর মন থেকে সোফানিসবার ভয় সহজে দূর হতো না। ঘরের অন্ধকার কোণ, জানালার পাশ কিংবা নির্জন করিডর—সব জায়গাতেই যেন মনে হতো, এই বুঝি কোথাও থেকে হাজির হবেন সেই ডাইনি!

রাতে একা বাথরুমে যেতে ভয় পাওয়া, ঘুমানোর সময় আলো জ্বালিয়ে রাখা কিংবা ভয়ে মায়ের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়া—এমন অভিজ্ঞতা অনেকের শৈশবের স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে। কেউ হয়তো পর্দায় দেখা দৃশ্য মনে করে কম্বলের ভেতর মুখ লুকিয়ে রাখত, আবার কেউ পরদিন স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করত সোফানিসবাকে নিয়ে। কে কতটা ভয় পেয়েছে, কার কাছে তাকে সবচেয়ে ভীতিকর মনে হয়েছে, তা নিয়েও চলত গল্প।

ভয় পেলেও চোখ ফেরানো যেত না

মজার বিষয় হলো, সোফানিসবাকে দেখে ভয় পেলেও শিশুরা তার উপস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারত না। বরং পরের পর্বে কী ঘটবে, তিনি আবার কী নতুন কাণ্ড ঘটাবেন—এসব জানার আগ্রহই দর্শকদের টেলিভিশনের সামনে ফিরিয়ে আনত।

গল্পের পরিণতি জানার অপেক্ষা, রহস্যের সমাধান আর চরিত্রগুলোর পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে কৌতূহল—সব মিলিয়ে প্রতিটি পর্ব ঘিরে তৈরি হতো আলাদা উত্তেজনা। ভয় আর মুগ্ধতার এই মিশ্র অনুভূতিই সোফানিসবাকে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে দিয়েছিল।

হ্যালোইনের সাজেও ফিরতে পারেন সোফানিসবা

সময় বদলেছে, বদলেছে শিশুদের বিনোদনের জগৎও। স্মার্টফোন, ইউটিউব, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আর নানা ধরনের অ্যানিমেশন ও সিরিজের ভিড়ে টেলিভিশনের সামনে বসে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুষ্ঠান দেখার অভ্যাস অনেকটাই কমেছে। তবু নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে ‘আলিফ লায়লা’ এখনো নস্টালজিয়ার এক বিশেষ নাম।

হ্যালোইনের সময় ভূত, ডাইনি কিংবা রহস্যময় চরিত্রের সাজে সাজার প্রবণতা সোফানিসবাকে নতুন করে মনে করিয়ে দিতে পারে। ঝলমলে পোশাক, গাঢ় চোখের মেকআপ, রহস্যময় অভিব্যক্তি আর অদ্ভুত চুলের সাজে তৈরি করা যেতে পারে তাঁর আদলে হ্যালোইন লুক। সুন্দরী অথচ ভয়ংকর ডাইনির চরিত্র হিসেবে সোফানিসবা হতে পারেন এমন সাজের অনুপ্রেরণা।

তবে সোফানিসবার স্মৃতি কেবল হ্যালোইনের সাজে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নব্বইয়ের দশকের শিশুদের ভয়, কৌতূহল, পারিবারিক আড্ডা আর টেলিভিশন ঘিরে কাটানো আনন্দময় সময়। একসময় যে চরিত্রের ভয়ে রাতের ঘুম হারাম হতো, আজ তাকে মনে করেই হয়তো মুখে হাসি ফুটে ওঠে। সময়ের সঙ্গে বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু শৈশবের সেই রহস্যময় চরিত্রগুলো রয়ে গেছে স্মৃতির পাতায়। সোফানিসবা তাদেরই একজন।

Advertisements