৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
ধর্ম

বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখতে পারবেন কারা?

847b3e9a8e9feeeb15cadf13da6727e8

ইসলামে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীকে পরস্পর দেখার অনুমতি রয়েছে। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পছন্দ ও সম্মতির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পাত্রীকে দেখার ক্ষেত্রে কারা অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। বিশেষ করে পাত্রের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সবাই বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখতে পারবেন না।

হাদিসে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো—ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, রূপ-সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

ইসলামে সাধারণভাবে গায়রে মাহরাম নারীকে দেখা নিষিদ্ধ। তবে বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রের জন্য পাত্রীকে দেখার বিশেষ অনুমতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে বলেছিলেন, ‘তুমি তাকে দেখে নাও। কেননা, এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৭)

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রীকে দেখার এই অনুমতি মূলত পাত্রের জন্য প্রযোজ্য। তাই পাত্রের বাবা, ভাই, বন্ধু কিংবা অন্য কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষের জন্য একই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। পাত্রের বাবা যদি ওই নারীর মাহরাম না হন, তাহলে বিয়ের আগে তাঁর জন্য পাত্রীকে দেখা জায়েজ হবে না।

অন্যদিকে, পাত্রের পরিবারের নারী সদস্যরা পাত্রীকে দেখতে পারবেন। কারণ, নারীদের মধ্যে পরস্পর দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে গায়রে মাহরাম পুরুষের মতো একই বিধান প্রযোজ্য নয়।

ফকিহ আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ আল-মাওসিলী (রহ.) তাঁর ফিকহি আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করতে চান, তাঁর জন্য ওই নারীকে দেখা জায়েজ।

Advertisements

তাই বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান মেনে চলা জরুরি। পাত্র নিজে এবং পাত্রের পরিবারের নারী সদস্যরা পাত্রীকে দেখতে পারবেন। তবে পাত্রের পরিবারের গায়রে মাহরাম পুরুষদের নিয়ে দলবেঁধে পাত্রী দেখার প্রচলিত রীতি শরিয়তসম্মত নয়।

Advertisements