২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১২ কার্তিক ১৪৩৩
ধর্ম

বাম হাতে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা কি নিষেধ?

quran-20240124101027

পবিত্র কোরআন মুসলমানদের কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার ধর্মীয় গ্রন্থ। এটি আল্লাহ তায়ালার কালাম হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। তাই কোরআন পাঠ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্মান ও শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। কোরআন হাতে নেওয়ার সময় কোন হাত ব্যবহার করা উত্তম, তা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে বাম হাতে কোরআন স্পর্শ করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধায় থাকেন।

সংগৃহীত

ইসলামি শিষ্টাচার অনুযায়ী, পবিত্র ও সম্মানজনক কাজ ডান হাত দিয়ে করা উত্তম। সে হিসেবে কোরআন শরিফ ডান হাতে ধরা বা বহন করাকে অধিক শোভন ও সুন্নাহসম্মত আদব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ডান হাত ব্যবহার করতে না পারলে কিংবা বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে বাম হাতে কোরআন ধরা বা বহন করাকে সর্বাবস্থায় হারাম বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে কোরআনের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মানজনক কাজে ডান হাত ব্যবহারের নির্দেশনা

ইসলামে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ভালো ও সম্মানজনক কাজে ডান হাত ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জনসহ বিভিন্ন কাজে ডান দিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন।

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তার বিভিন্ন কাজে ডান দিক দিয়ে শুরু করতে ভালোবাসতেন। এ বিষয়ে সহিহ বুখারির ১৬৭ নম্বর হাদিসে বর্ণনা রয়েছে।

অন্য একটি হাদিসে হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্রতা অর্জন, খাবার গ্রহণ এবং সম্মানজনক কাজে ডান হাত ব্যবহার করতেন। অন্যদিকে শৌচকার্য ও অপবিত্রতা দূর করার কাজে বাম হাত ব্যবহার করতেন। সুনানে আবু দাউদের ৩৩ নম্বর হাদিসে এ বর্ণনা পাওয়া যায়।

এসব হাদিসের ভিত্তিতে ইসলামি ফকিহরা সম্মানজনক ও ভালো কাজের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

Advertisements

বাম হাতে কোরআন ধরলে কি গুনাহ হবে?

কোরআন শরিফ ডান হাতে ধরা উত্তম হলেও বাম হাতে ধরলেই তা হারাম বা গুনাহ হবে—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। কারও ডান হাতে সমস্যা থাকলে, শারীরিক অসুবিধা থাকলে কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনের কারণে বাম হাতে কোরআন ধরতে হলে তা ভিন্ন বিষয়। এ ক্ষেত্রে কোরআনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকলে শুধু বাম হাত ব্যবহারের কারণে কাউকে গুনাহগার বলা যায় না।

তবে কোরআন হাতে নেওয়ার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখা এবং অসম্মানজনক আচরণ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কোরআন স্পর্শ করার ক্ষেত্রে পবিত্রতা বা অজু-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়টিও আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে মাজহাবভেদে বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা রয়েছে।

ইসলামি শিষ্টাচারে ডান হাতের গুরুত্ব

বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত ইমাম নববী (রহ.) সম্মানজনক কাজের ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অজু করা, গোসল করা, পোশাক পরা, মসজিদে প্রবেশ করা, মিসওয়াক করা ও সুরমা ব্যবহারের মতো কাজে ডান দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া মুস্তাহাব।

এই নির্দেশনার মূল শিক্ষা হলো, সম্মানজনক কাজে ডান হাত ব্যবহার করা ইসলামের শিষ্টাচারের অংশ। তাই কোরআন শরিফ হাতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ডান হাত ব্যবহার করা অধিক উত্তম।

সব মিলিয়ে, পবিত্র কোরআন ডান হাতে ধরা ও বহন করা উত্তম ইসলামি আদব। তবে প্রয়োজন বা অপারগতায় বাম হাতে ধরাকে সব পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ বলা যায় না। কোরআনের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিচ্ছন্নতা ও যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements