২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

সঙ্গী না পেলে ঘুমিয়ে পড়ে কোয়ালারা! ঘুমকাতুরেদের প্রেমের রহস্য কী?

WhatsApp Image 2026-10-23 at 6.20.21 PM

অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে বসবাসকারী কোয়ালারা দিনের প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটাতে পারে। তবে এই দীর্ঘ ঘুম নিছক অলসতার ফল নয়। তাদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কোয়ালার প্রধান খাবার ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা। এই পাতায় পুষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম, আবার এতে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান হজম করাও কঠিন। তাই খাবার থেকে পর্যাপ্ত শক্তি সংগ্রহ করতে এবং শরীরের শক্তি খরচ কমিয়ে রাখতে কোয়ালাদের দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নিতে হয়।

সঙ্গী খোঁজার বিষয়টিও তাদের এই জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রজননের মৌসুমে পুরুষ কোয়ালারা সাধারণত ডাকাডাকি করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। তাদের গভীর, গম্ভীর ডাক অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যেতে পারে। এই ডাকের মাধ্যমে তারা অন্য কোয়ালাকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে জানায় এবং সঙ্গী আকর্ষণের চেষ্টা করে। অন্যদিকে, স্ত্রী কোয়ালারাও প্রজননের উপযুক্ত সময়ে সঙ্গীর প্রতি আগ্রহ দেখায়।

কিন্তু সব সময় যে সঙ্গী পাওয়া যায়, তা নয়। উপযুক্ত সঙ্গীর উপস্থিতি, প্রজননের সময় এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে তাদের এই প্রক্রিয়া। সঙ্গী না পেলে কোয়ালারা মানুষের মতো হতাশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে—বিষয়টি এমন নয়। বরং তাদের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ অনুযায়ী তারা বিশ্রাম নেয়, খাবার খোঁজে এবং প্রয়োজনমতো চলাফেরা করে। অর্থাৎ, সঙ্গী না পাওয়ার সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কোয়ালার এই সঙ্গী খোঁজার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো তাদের ডাক। দেখতে শান্ত ও নিরীহ মনে হলেও পুরুষ কোয়ালার ডাক বেশ গভীর ও গম্ভীর। অনেক সময় এই ডাক কয়েক শ মিটার দূর থেকেও শোনা যায়। এর মাধ্যমে তারা স্ত্রী কোয়ালাকে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি অন্য পুরুষদেরও নিজেদের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে।

তবে কোয়ালার জীবন শুধু ঘুম আর সঙ্গী খোঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে তাদের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত ইউক্যালিপটাস গাছ, নিরাপদ আবাসস্থল এবং পর্যাপ্ত খাবার। বন উজাড়, আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে যাওয়া, দাবানল ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা কারণে অনেক এলাকায় কোয়ালার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘সঙ্গী না পেলে কোয়ালারা আবার ঘুমিয়ে পড়ে’—কথাটি প্রাণীটির ঘুমকাতুরে স্বভাবকে মজারভাবে তুলে ধরলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো আচরণ নয়। বাস্তবে দীর্ঘ ঘুম তাদের খাদ্যাভ্যাস ও শক্তি সাশ্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর সঙ্গী খোঁজার তাগিদে তারা প্রয়োজনমতো সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই অদ্ভুত সুন্দর প্রাণীটি তাই আমাদের শেখায়, কখনো বিশ্রাম নেওয়া যেমন বেঁচে থাকার কৌশল, তেমনি প্রয়োজনের মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে ওঠাও জীবনের অপরিহার্য অংশ।

Advertisements

Advertisements