২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৭ কার্তিক ১৪৩৩
রূপ-সৌন্দর্য

ঠোঁটে গোলাপি আভা ফেরাবেন যেভাবে

3-20251010085713

সুন্দর, কোমল ও স্বাভাবিক গোলাপি ঠোঁট কে না চান! কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তন, রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকা, শুষ্কতা, ধূমপান কিংবা ঠোঁটের প্রতি অযত্নের কারণে অনেক সময় ঠোঁটের স্বাভাবিক রং মলিন হয়ে যায়। ঠোঁট ফেটে যাওয়া, খসখসে ভাব কিংবা কালচে ছোপও দেখা দিতে পারে। তবে নিয়মিত যত্ন, সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার এবং কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে ঠোঁটের কোমলতা ও স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ঠোঁটের রং কেন বদলে যায়?

ঠোঁটের রং সবার এক রকম হয় না। জিনগত বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক ত্বকের রঙের কারণে কারও ঠোঁট গোলাপি, আবার কারও ঠোঁট কিছুটা বাদামি হতে পারে। এটি স্বাভাবিক। তবে আগে থেকে ঠোঁটের রং গাঢ় হয়ে গেলে তার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন—সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, ধূমপান, ঠোঁট বারবার চাটা, পানিশূন্যতা এবং কোনো প্রসাধনীতে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া। তাই ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার আগে রং পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণটি বোঝা জরুরি।

ঠোঁটের গোলাপি আভা ফেরাতে যা করবেন

১. নিয়মিত ব্যবহার করুন লিপ বাম
ঠোঁটের কোমলতা বজায় রাখতে লিপ বাম অত্যন্ত কার্যকর। ঠোঁট শুষ্ক হয়ে গেলে তা ফেটে যেতে পারে এবং আরও মলিন দেখাতে পারে। তাই দিনে কয়েকবার এবং ঘুমানোর আগে সুগন্ধিবিহীন, মৃদু উপাদানের লিপ বাম ব্যবহার করুন। পেট্রোলাটাম বা সেরামাইডযুক্ত পণ্য ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

২. রোদ থেকে ঠোঁটকে সুরক্ষিত রাখুন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ঠোঁটের রং গাঢ় হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সুরক্ষাযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে এবং খাওয়াদাওয়া বা ঠোঁট মোছার পর আবার লাগান। টুপি ব্যবহার করলেও ঠোঁটের সুরক্ষায় বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

Advertisements

৩. ঠোঁট চাটা ও কামড়ানোর অভ্যাস ছাড়ুন
ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজান। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। একইভাবে ঠোঁট কামড়ানো বা খোসা টেনে তোলার অভ্যাসে ক্ষত, প্রদাহ ও কালচে দাগ তৈরি হতে পারে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিহ্বা দিয়ে ভেজানোর পরিবর্তে লিপ বাম ব্যবহার করুন।

৪. মেকআপ তোলার সময় সতর্ক থাকুন
লিপস্টিক ব্যবহারের পর ঠোঁট পরিষ্কার করতে গিয়ে জোরে ঘষাঘষি করবেন না। নরম কাপড় বা উপযুক্ত মৃদু মেকআপ রিমুভার দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। লিপস্টিক, লিপ লাইনার বা লিপ বাম ব্যবহারের পর যদি ঠোঁটে চুলকানি, জ্বালাপোড়া কিংবা ফাটাভাব দেখা দেয়, তাহলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরে পানির ঘাটতি হলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই তৃষ্ণা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাশাপাশি সুষম খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। তবে শুধু পানি পান করলেই ঠোঁটের স্বাভাবিক রং গোলাপি হয়ে যাবে, এমন নয়।

৬. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন
ধূমপান ঠোঁটের রং গাঢ় হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে ধূমপান ত্যাগ করা ভালো। ধূমপান বন্ধ করলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও উপকৃত হয়, যদিও ঠোঁটের রং কতটা বদলাবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

৭. ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
ঠোঁটে গোলাপি আভা ফেরাতে অনেকে লেবুর রস, বেকিং সোডা, টুথপেস্ট কিংবা চিনি দিয়ে ঘষার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কিন্তু এসব উপাদান ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া, ক্ষত ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। লেবুর রসের মতো উপাদান রোদের সংস্পর্শে ত্বকের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই ঠোঁট ফর্সা বা গোলাপি করার আশায় এসব ব্যবহার না করাই ভালো।

ঠোঁটের যত্নে সহজ দৈনিক রুটিন

সকালে: মুখ পরিষ্কারের পর এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার লিপ বাম লাগান।

দিনের বেলায়: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে আবার লিপ বাম ব্যবহার করুন। বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সান প্রোটেকশনযুক্ত লিপ বাম পুনরায় লাগান।

রাতে: ঠোঁটের মেকআপ আলতোভাবে তুলে সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম বা পেট্রোলাটাম লাগিয়ে ঘুমাতে যান।

এই সহজ রুটিন নিয়মিত মেনে চললে ঠোঁটের শুষ্কতা ও ফাটাভাব কমতে পারে। তবে স্বাভাবিক ঠোঁটের রং ফিরতে কতটা সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে রং পরিবর্তনের কারণের ওপর।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

ঠোঁটের রং হঠাৎ বদলে গেলে, নতুন করে কালচে ছোপ তৈরি হলে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত বা ঘা থাকলে কিংবা ব্যথা, ফোলা ও বারবার রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর সমস্যা শুরু হলেও সেটিকে অবহেলা করবেন না।

সুস্থ ঠোঁট মানেই উজ্জ্বল গোলাপি ঠোঁট নয়। ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই রং বদলানোর চেয়ে ঠোঁটকে সুস্থ, কোমল ও আর্দ্র রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিন। নিয়মিত যত্নই ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।

Advertisements