২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, সম্ভাব্য আঘাত ভারতের উপকূলে

images (15)

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে অনুকূল পরিস্থিতি পেলে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। আবহাওয়ার বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে এটি ঠিক কোথায় এবং কখন স্থলভাগে আঘাত হানবে, তা নিয়ে পূর্বাভাসগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ড উপকূলের কাছ থেকে সৃষ্ট লঘুচাপটি ইতোমধ্যে আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থান করছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে শনিবারের মধ্যে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সিস্টেমটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় আরও শক্তিশালী হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিম্নচাপটি অনুকূল পরিবেশ পেলে ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর গতিপথ ও শক্তি নির্ভর করবে বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত উপাদানের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল জিএফএসের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এই মডেলে ২৩ অক্টোবর নিম্নচাপ সৃষ্টি এবং ২৫ অক্টোবরের দিকে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে পারে। মডেলটির সম্ভাব্য গতিপথে ২৭ অক্টোবর রাতে ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি আঘাত হানার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম উইন্ডিডটকমের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে দেখানো হয়েছে। এই পূর্বাভাস অনুসারে, ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপকূলটিতে আঘাত হানতে পারে সিস্টেমটি।

ইউরোপীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল ইসিএমডব্লিউএফের হিসাবেও কিছুটা ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। এই মডেল অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে এবং ২৬ অক্টোবরের দিকে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ২৮ অক্টোবর দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া সংলগ্ন উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।

Advertisements

বিভিন্ন মডেলে সম্ভাব্য আঘাতের স্থান ও সময়ের পার্থক্য থাকায় এখনই ঘূর্ণিঝড়টির চূড়ান্ত গতিপথ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে নতুন আবহাওয়াগত তথ্য পাওয়া গেলে পূর্বাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, দমকা হাওয়া কিংবা ঝোড়ো আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি, গতিপথ ও স্থলভাগে প্রবেশের অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তা ও পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া নামের পূর্বনির্ধারিত তালিকা থেকে। বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরানসহ ১৩টি দেশের দেওয়া নাম পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করা হয়।

কোনো আবহাওয়াগত সিস্টেম ঘনীভূত হয়ে নির্ধারিত পর্যায়ের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তালিকা অনুযায়ী তার নাম দেওয়া হয়। সেই তালিকায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাম ‘অর্ণব’, যার অর্থ সমুদ্র বা সাগর।

সব মিলিয়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটির পরবর্তী গতিবিধি এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত কোন উপকূলে আঘাত হানবে, তা নিশ্চিত হতে আরও হালনাগাদ আবহাওয়ার তথ্যের প্রয়োজন। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি আবহাওয়া সতর্কবার্তা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements