২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৭ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

মাথাব্যথা হলে যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি

types_of_headaches_and_their_rem

মাথাব্যথা দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত একটি সমস্যা। ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত পানি পান না করা কিংবা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে অনেকের মাথাব্যথা হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ব্যথা কিছু সময়ের মধ্যে কমে যায়। তবে কখনো কখনো মাথাব্যথা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সাধারণত মাথাব্যথা আধা ঘণ্টা থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ব্যথার ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। কারও মাথাব্যথা হালকা থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। তাই মাথাব্যথা হলে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

মাথাব্যথা শুরু হলে প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে বা ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। সর্দি, কাশি, জ্বর কিংবা ফ্লুর মতো সমস্যা থাকলে শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন। একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। দীর্ঘ সময় কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা এবং অনিয়মিত জীবনযাপন মাথাব্যথার তীব্রতা বাড়াতে পারে।

শরীরের অবস্থা অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম বা কিছুক্ষণ হাঁটাচলাও উপকারী হতে পারে। তবে ব্যথা তীব্র হলে জোর করে ব্যায়াম করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিয়ে প্যারাসিটামলের মতো ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যায়। ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও নির্ধারিত মাত্রা বিবেচনা করা জরুরি।

মাথাব্যথার সময় কিছু অভ্যাস এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ব্যথা হচ্ছে বলে খাবার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। ক্ষুধার্ত থাকা কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কারও কারও মাথাব্যথা বাড়তে পারে। খাওয়ার রুচি কম থাকলেও হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

দ্বিতীয়ত, স্বাভাবিক ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম যেমন প্রয়োজন, তেমনি স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ঘুমের কারণে কিছু মানুষের মাথাব্যথা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

Advertisements

তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন। একটানা স্ক্রিন ব্যবহারে চোখে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে এবং মাথাব্যথা বাড়তে পারে। কাজের ফাঁকে বিরতি নিন, চোখকে বিশ্রাম দিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দার উজ্জ্বলতা ঠিক করে নিন।

এ ছাড়া অ্যালকোহল পান করা এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করতে পারে এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। মাথাব্যথার সময় শান্ত পরিবেশে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বিশ্রাম নেওয়া স্বস্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।

তবে সব মাথাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। ঘন ঘন মাথাব্যথা হলে, ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের পরও ব্যথা না কমলে কিংবা ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মাথার সামনের অংশে বা এক পাশে তীব্র স্পন্দনশীল ব্যথা হলে সেটি মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ক্লাস্টার হেডেক নামের এক ধরনের তীব্র মাথাব্যথাও এর কারণ হতে পারে।

মাথাব্যথার সঙ্গে বমিভাব, বমি, আলো বা শব্দ সহ্য করতে অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, মাথাব্যথার সঙ্গে শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে গেলে, কথা বলতে সমস্যা হলে, বিভ্রান্তি দেখা দিলে কিংবা জ্বরের সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

মাথাব্যথা কমাতে নিয়মিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যথা বারবার ফিরে এলে বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে এর কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Advertisements