তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, প্রাণ গেল অন্তত ১৬ জনের

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাড়িঘর ধসে পড়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

ভূমিকম্পটি তিব্বতের রাজধানী লাসার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত নাগকু অঞ্চলে আঘাত হানে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই পার্বত্য অঞ্চল তুলনামূলকভাবে জনবিরল। ভূমিকম্পের পর সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায়। এ কারণে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্পে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর এই অঞ্চল ও এর আশপাশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ২০২৩ সালে চীনের প্রতিবেশী গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১২০ জন। তিব্বতের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর আবারও চীনের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



