ঢাকার বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি, তবু স্বাস্থ্যঝুঁকি কাটেনি

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে এই উন্নতি সত্ত্বেও নগরীর বাতাস এখনো সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার সকালে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১২তম।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয় ১৪৪। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এই সূচক ছিল ১৭৩। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার বাতাসের মানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া ও দূষণের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বায়ুমানের সূচক পরিবর্তিত হতে পারে।
একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বায়ুমান সূচক ছিল ২৮৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ২৪৩ সূচক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। সেখানকার বাতাসের মানও ছিল ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে।
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুমান পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কয়েকটি নগরীর বাতাসও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, মিশরের কায়রো, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ভারতের মুম্বাই ও কলকাতা এবং সেনেগালের ডাকার।
ঢাকার মতো সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি শহর। এর মধ্যে আছে কঙ্গোর কিনশাসা, ভিয়েতনামের হ্যানয়, বাহরাইনের মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, উজবেকিস্তানের তাসখন্দ, চীনের বেইজিং, সৌদি আরবের রিয়াদ, সিঙ্গাপুর, কুয়েত সিটি, পাকিস্তানের করাচি, যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন এবং নেপালের কাঠমান্ডু।
আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে একিউআই থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সূচককে মাঝারি বা সহনীয় পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। আর সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাস সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য করা হয়।
এ ছাড়া একিউআই ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সূচকের মাধ্যমে বাতাসে দূষণের মাত্রা এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
বায়ুদূষণের প্রভাব শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের ওপর তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে এসব মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বায়ুমানের অবনতি হলে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হলে উপযুক্ত সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করা এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
ঢাকার বায়ুমানের সূচকে সাময়িক উন্নতি দেখা গেলেও দূষণের ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায়নি। তাই নগরবাসীর জন্য বায়ুমানের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।



