২২ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৬ কার্তিক ১৪৩৩
ধর্ম

ইস্তিগফার কী, কেন করবেন? জেনে নিন ফজিলত, পড়ার উত্তম সময়

salo_1694461203

মানুষের জীবনে ভুল-ত্রুটি ও পাপ হতে পারে। ইসলামে এসব থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইস্তিগফার। নিয়মিত ইস্তিগফার মুমিনের আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার পথ খুলে দেয়।

মানুষ প্রতিদিন নানা কাজের মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। কখনো জেনে, কখনো না জেনে ভুল হয়ে যায়। কখনো নিজের আচরণে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, আবার কখনো আল্লাহর নির্দেশ পালনে অবহেলা দেখা দেয়। ইসলামে এসব ভুল উপলব্ধি করে অনুতপ্ত হওয়া, পাপ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমা প্রার্থনাকেই বলা হয় ইস্তিগফার।

ইস্তিগফার শুধু মুখে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজের ভুল স্বীকার করা, অন্তরে অনুশোচনা অনুভব করা এবং যথাসম্ভব সেই ভুল থেকে ফিরে আসার সংকল্প। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ইস্তিগফারের গুরুত্ব, এর বরকত এবং আল্লাহর রহমত লাভের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

ইস্তিগফার কী এবং এর অর্থ কী?

ইস্তিগফার আরবি শব্দ। এর অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। ইসলামের পরিভাষায় নিজের গুনাহ ও ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাওয়াকে ইস্তিগফার বলা হয়।

ইস্তিগফারের বহুল প্রচলিত বাক্য হলো—

Advertisements

أَسْتَغْفِرُ اللهَ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

একজন মুসলমান যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। তবে ইস্তিগফারের প্রকৃত তাৎপর্য হলো আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং পাপ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, অর্থাৎ, “আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৯)

নবী-রাসুলদের জীবনেও ছিল ইস্তিগফার

ইস্তিগফারের গুরুত্ব বোঝার জন্য নবী-রাসুলদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে তাঁদের বিভিন্ন দোয়া ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। হজরত সুলায়মান (আ.) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি বিশেষ অনুগ্রহ কামনা করে দোয়া করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে তাঁর সেই দোয়া এসেছে—

“হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারও জন্য উপযুক্ত হবে না। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।” (সুরা সোয়াদ, আয়াত ৩৫)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি দিনে একাধিকবার তাওবা ও ইস্তিগফার করতেন। অন্য একটি বর্ণনায় দিনে ৭০ বারের বেশি ইস্তিগফারের কথা এসেছে। ফরজ নামাজ শেষেও তিনি তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন। (সহিহ মুসলিম; মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস ৯৬১) । এ থেকে বোঝা যায়, ইস্তিগফার কেবল পাপ করার পরই নয়, বরং প্রতিদিনের ইবাদত ও জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইস্তিগফারের ১৫টি ফজিলত ও উপকারিতা
কোরআন ও হাদিসে ইস্তিগফারের বিভিন্ন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দুনিয়াবি কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত, আবার কয়েকটি আখিরাতের মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সঙ্গে যুক্ত।

১. গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভ
ইস্তিগফারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে নিজের পাপের ক্ষমা চাওয়া। আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশা করা যায়। তবে তাওবার সঙ্গে অনুশোচনা এবং পাপ থেকে ফিরে আসার আন্তরিক চেষ্টা থাকা জরুরি।

২. আল্লাহর রহমত লাভ
ইস্তিগফার মানুষকে আল্লাহর করুণা ও ক্ষমার দিকে ফিরিয়ে নেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই পাপ হয়ে গেলেও হতাশ না হয়ে তাওবা করা উচিত।

৩. রিজিকে বরকতের আশা
সুরা নুহে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ইস্তিগফারকে রিজিক ও জীবনের কল্যাণ কামনার গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে দেখা হয়।

৪. দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথে সহায়তা
ইস্তিগফার মানুষকে নিজের ভুল উপলব্ধি করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি ও মানসিক শক্তি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। তবে সব দুশ্চিন্তা বা মানসিক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে একে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

৫. আত্মশুদ্ধি ও অন্তরের প্রশান্তি
নিজের ভুল স্বীকার করা এবং সংশোধনের চেষ্টা মানুষের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ইস্তিগফার আত্মসমালোচনা, বিনয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

৬. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন
আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।

৭. বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা
মুমিন বিপদ-আপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ইস্তিগফার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি মাধ্যম; তবে এর অর্থ এই নয় যে নিয়মিত ইস্তিগফার করলে জীবনে কোনো বিপদ আসবে না।

৮. রহমত ও কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার আশা
সুরা নুহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অনুগ্রহের কথা এসেছে। আয়াতগুলো ইস্তিগফারের গুরুত্ব ও আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি মানুষের নির্ভরতার শিক্ষা দেয়।

৯. পরিবার ও সন্তান-সন্ততির কল্যাণ কামনা
সন্তান-সন্ততি ও পারিবারিক জীবনের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। ইস্তিগফারও সেই ইবাদতের অংশ। তবে শুধু ইস্তিগফার করলেই নির্দিষ্টভাবে সন্তান লাভ বা পারিবারিক সমস্যার সমাধান নিশ্চিত—এমন দাবি করা যায় না।

১০. নৈতিক চরিত্র উন্নত করা
ইস্তিগফারের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়। অন্যায় থেকে ফিরে আসা, সত্য বলা, আমানত রক্ষা করা এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করার সংকল্প চরিত্রকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

১১. মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেতনতা
কোনো মানুষের প্রতি অন্যায় করলে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, অপবাদ বা অধিকার নষ্ট করার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা যথাযথভাবে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করতে হয়।

১২. অহংকার ও আত্মতুষ্টি থেকে দূরে থাকা
নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে প্রত্যেকেরই ভুল হতে পারে। এই উপলব্ধি অহংকার কমাতে এবং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে সহায়তা করে।

১৩. তাওবার মাধ্যমে নতুনভাবে জীবন শুরু
অতীতের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে সৎ পথে ফিরে আসা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ইস্তিগফার সেই প্রত্যাবর্তনের একটি অংশ। অতীতের পাপ নিয়ে হতাশ না হয়ে সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

১৪. দোয়া ও ইবাদতে আন্তরিকতা বৃদ্ধি
ইস্তিগফার মানুষকে বিনয়ী করে এবং আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও দুর্বলতা তুলে ধরতে উৎসাহিত করে। এর ফলে দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতে আন্তরিকতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

১৫. আখিরাতে মুক্তি ও জান্নাত লাভের আশা
ইসলামে তাওবা, ঈমান ও সৎকর্মের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তরিক তাওবা ও আল্লাহর ক্ষমা লাভের মাধ্যমে আখিরাতে সফলতার আশা করা যায়। জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহর রহমতের পাশাপাশি ঈমান ও নেক আমলও গুরুত্বপূর্ণ।

ইস্তিগফার করার সঠিক নিয়ম
ইস্তিগফার করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জটিল পদ্ধতি আবশ্যক নয়। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়াই মূল বিষয়। তবে তাওবার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, নিজের ভুল স্বীকার করা: যে পাপ বা অন্যায় করা হয়েছে, তা উপলব্ধি করতে হবে। নিজের ভুলকে অস্বীকার করা কিংবা অন্যায়কে তুচ্ছ মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অনুতপ্ত হওয়া: অন্তরে ভুলের জন্য অনুশোচনা থাকতে হবে। শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া নয়, বরং অন্যায় কাজের জন্য সত্যিকারভাবে লজ্জিত হওয়া জরুরি।

তৃতীয়ত, পাপ থেকে বিরত থাকা: যে অন্যায় থেকে তাওবা করা হচ্ছে, তা ছেড়ে দেওয়ার আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে।

চতুর্থত, পুনরায় না করার সংকল্প করা: ভবিষ্যতে একই পাপে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা থাকতে হবে। পরে দুর্বলতার কারণে আবার ভুল হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে পুনরায় তাওবা করতে হবে।

পঞ্চমত, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া: কারও অর্থ, সম্পদ বা অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যের প্রতি অন্যায় হয়ে থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে।

এরপর যেকোনো সময় ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়। চাইলে নিজের ভাষাতেও দোয়া করা যায়।

ইস্তিগফারের উত্তম সময় কখন?
ইস্তিগফার করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের অপেক্ষা করতে হয় না। দিন-রাতের যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়। তবে কোরআন ও হাদিসে কয়েকটি সময়ের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর: কোনো পাপ বা অন্যায় হয়ে গেলে দেরি না করে তাওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত।
ফরজ নামাজের পর: রাসুলুল্লাহ (সা.) ফরজ নামাজ শেষে তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন। তাই নামাজের পর এই আমল করা সুন্নাহ।
রাতের শেষ ভাগে: পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৭ নম্বর আয়াত এবং সুরা আয-যারিয়াতের ১৮ নম্বর আয়াতে শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে।
সাহরির সময়: রাতের শেষ ভাগে, বিশেষ করে সাহরির কাছাকাছি সময়ে ইস্তিগফার ও দোয়া করা উত্তম আমল।
নেক আমলের পর: নিজের ইবাদতে কোনো ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে—এই বিনয়ী উপলব্ধি থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়।
দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে: চলাফেরা, কাজ কিংবা অবসর সময়ে মনোযোগ ও আন্তরিকতা বজায় রেখে ইস্তিগফার করা যায়।
কোন ইস্তিগফার বেশি পড়বেন?
সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত ইস্তিগফার হলো ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার’ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দোয়া। এটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

দোয়ার শুরুটি হলো—

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পূর্ণাঙ্গ দোয়া হিসেবে মুখস্থ করে অর্থ বুঝে পড়া উত্তম। পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া যায়।

ইস্তিগফার একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। এর মাধ্যমে মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করে এবং ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হওয়ার সংকল্প গ্রহণ করে। তবে ইস্তিগফারের প্রকৃত প্রভাব উপলব্ধি করতে হলে শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। অন্যায় পরিহার, মানুষের অধিকার রক্ষা, সৎকর্ম এবং নিজের আচরণ সংশোধনের চেষ্টাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইস্তিগফার করার, নিজেদের ভুল সংশোধন করার এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Advertisements