২২ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৬ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা

d466851092e8d5d909e1586f19bca15a-6ad9ce6aef7c4 (1)

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে সদস্যসংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তানকে নিয়ে বিশাল সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই তাঁকে লড়তে হচ্ছে দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের সঙ্গে। সীমিত আয়ে পরিবারের সবার মুখে খাবার তুলে দেওয়াই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বয়স ৫৭ বছর। জীবনের এই পর্যায়ে এসে যেখানে অনেকেই সন্তানদের সহযোগিতায় কিছুটা স্বস্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখেন, সেখানে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ সাদিককে প্রতিদিন ভাবতে হয় পরিবারের এতগুলো মানুষের খাবার জোগাড় করবেন কীভাবে। চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে তাঁর বিশাল সংসারে অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী। আর্থিক সংকট এতটাই তীব্র যে কখনো কখনো পরিবারের শিশুদেরও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) খামা প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাদিকের পরিবারের এই কঠিন বাস্তবতা। বিপুলসংখ্যক সন্তানকে লালন-পালন, তাদের খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে।

সন্তানদের নাম মনে রাখাও কঠিন

সাদিকের পরিবারের আকার এতটাই বড় যে নিজের সব সন্তানের নাম মনে রাখতেও কখনো কখনো সমস্যায় পড়েন তিনি। পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেতে বসলে সন্তানদের গুনে দেখার চেষ্টা করেন। তবু কখনো দেখা যায়, একজন অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে পরিবারের অন্য কোথাও রয়েছে।

এমনকি সন্তানদের নাম মনে করতে না পারলে কখনো কখনো তাঁদের ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন তিনি। একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার সামনে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisements

তবে এই বিশাল পরিবারের গল্পে শুধু সদস্যসংখ্যার বিস্ময় নেই; রয়েছে দীর্ঘদিনের অভাব, হারানোর বেদনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাদিক ও তাঁর স্ত্রীরা বছরের পর বছর ১৪ সন্তানকে হারিয়েছেন।

সামান্য আয়ে চলে বিশাল সংসার

সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তাঁর আয় নির্ভর করে গাড়ি বিক্রির ওপর। একটি গাড়ি বিক্রি হলে প্রায় এক হাজার আফগানি পান তিনি। এই সামান্য আয় দিয়ে পরিবারের এত মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সংসারের খরচ চালাতে তাঁর কয়েকজন সন্তানও কাজ করে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাঁরা কাজ করার মতো অবস্থায় রয়েছেন, তাঁরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সংসারের ব্যয় মেটাতে সহায়তা করেন।

পরিবারটিতে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার তৈরি হয়—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খেতে বসেন। গ্রীষ্মকালে তাঁদের খাবারের আয়োজন হয় উঠানে।

কিন্তু এত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা সব সময় সম্ভব হয় না। খাদ্যসংকটের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হয়, যা সাদিকের জীবনের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা।

Advertisements