আকিকার পরও কি সন্তানের নাম পরিবর্তন করা যাবে?

সন্তানের জন্মের পর তার সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে আকিকা সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কারণে সন্তানের নাম পরিবর্তন করতে চাইলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এতে ধর্মীয় কোনো বাধা আছে কি না কিংবা নতুন করে আকিকা দিতে হবে কি না।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আকিকা করার পরও সন্তানের নাম পরিবর্তন করা যায়। নাম পরিবর্তনের সঙ্গে আকিকার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই নাম পরিবর্তন করলে পুনরায় আকিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
ইসলামে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো নাম অসুন্দর বা অনুপযুক্ত হলে তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখা মুস্তাহাব। আর যেসব নামের অর্থে শিরকের ইঙ্গিত রয়েছে কিংবা যেসব নাম কেবল মহান আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, সেসব নাম পরিবর্তন করা আবশ্যক।
হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে দিতেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৩৯)
আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক নারীর নাম ‘আসিয়া’ পরিবর্তন করে ‘জামিলা’ রেখেছিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৩৯)
সন্তানের আকিকা প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকার পশু জবাই করা, মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং নাম রাখার কথা বলা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৮)
তবে আকিকার পর নাম পরিবর্তন করলেও নতুন করে আকিকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, আকিকা একবার সম্পন্ন হয়ে গেলে একই সন্তানের জন্য আবার আকিকা করার বাধ্যবাধকতা নেই।
অর্থাৎ, সন্তানের নাম পরিবর্তন করা শরিয়তসম্মত হলেও এর জন্য পুনরায় আকিকা দিতে হবে না।



