২০ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৪ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

ফেলে দেওয়া বোতলে পরিবেশবান্ধব দুর্গাপূজার মণ্ডপ

acdbef04615fb43974b08ffe6b6966e9-6ad6e41d223b0

ছয় হাজারের বেশি প্লাস্টিকের বোতল, তুলা ও নেটের সমন্বয়ে শেরপুরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ। নান্দনিক সাজসজ্জার পাশাপাশি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন আয়োজকেরা।

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল সাধারণত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়। তবে সৃজনশীল ভাবনায় সেই বর্জ্যও হয়ে উঠতে পারে শিল্পের উপকরণ। এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের দেখা মিলেছে শেরপুর শহরের নয়ানী বাজার কালীর বাজার মা ভবতারা মন্দিরে। দুর্গাপূজার ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছয় হাজারের বেশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপটি। তুলা, নেট ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে মেঘের আবহ, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মণ্ডপটির আয়োজন করেছে স্থানীয় সংগঠন মার্চেন্ট ক্লাব। বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া বোতলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে মণ্ডপের মূল কাঠামো। এর সঙ্গে তুলা ও নেট ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মেঘের মতো দৃশ্য। আলোর নান্দনিক ব্যবহারে পুরো মণ্ডপে তৈরি হয়েছে আলোছায়ার মায়াবী পরিবেশ। ব্যতিক্রমী এই সাজ দেখতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী।

মণ্ডপ দেখতে আসা অজয় কুমারের কাছে এবারের আয়োজন বিশেষভাবে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গত বছর মণ্ডপটি পাখির আদলে সাজানো হয়েছিল। এবার প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে আরও সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিবছর নতুন ভাবনার মণ্ডপ দেখতে তিনি পরিবার নিয়ে আসেন। এবারও সেই অভিজ্ঞতা স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলেছেন।

মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন নয়ানী বাজার এলাকার দুই ভাই গৌর মালাকার ও নিতাই মালাকার। চারজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা এই কাজ করেছেন। তাঁদের পরিকল্পনায় পরিত্যক্ত বোতল, তুলা ও নেটের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী নকশা।

গৌর ও নিতাইয়ের উদ্দেশ্য শুধু দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করা নয়; বরং প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও। তাঁদের মতে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে পরিচিত এই উপাদানকে সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখানো সম্ভব। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও পরিবেশ সচেতনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ব্যবহার প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর কী ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। পূজা শেষে মণ্ডপে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতলগুলো পরিবেশসম্মতভাবে অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

মার্চেন্ট ক্লাবের সভাপতি মিহির কুমার দত্ত মুকুল জানান, সৃজনশীল মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আয়োজনটির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে চান তাঁরা।

Advertisements

Advertisements