১৭ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

দুর্গাপূজায় উচ্চশব্দে মাইক, আতশবাজি ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের নির্দেশ

e6e22e069e1a9991dce8d9efd9d6462d

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধবভাবে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোর জন্য ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। নির্দেশনায় উচ্চশব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

সংগৃহীত

পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজার আয়োজন এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ধর্মীয় পরিবেশ বজায় থাকার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়। উৎসবের আনন্দ যেন শব্দদূষণ, পরিবেশের ক্ষতি কিংবা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক থাকতে হবে।

পূজামণ্ডপে উচ্চশব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে পরিষদ। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো এবং ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক সংগীতের বাইরে অন্য গান বাজানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চস্বরে ডিজে সংগীতের পরিবর্তে ধর্মীয় গান পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংগৃহীত

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা জানিয়েছেন, পূজামণ্ডপে উচ্চস্বরে ডিজে বাজানোর বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ধর্মীয় গান বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজার অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সময় শব্দের মাত্রা এমন পর্যায়ে রাখতে হবে, যাতে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন না ঘটে।

পরিবেশ সুরক্ষায় পূজামণ্ডপ সাজানো এবং অন্যান্য আয়োজনের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সাজসজ্জা ও ব্যবস্থাপনায় এমন উপকরণ বেছে নিতে বলা হয়েছে, যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমায় এবং উৎসব শেষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে।

বিদ্যুতের অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পূজামণ্ডপ, প্রবেশপথ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে নিরাপত্তার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Advertisements

বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে জেনারেটর, ইউপিএস, সোলার প্যানেল, চার্জার লাইট অথবা অনুরূপ বিকল্প বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে উন্নত মানের তার ও নিরাপদ সংযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, যাতে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

দুর্গাপূজা চলাকালে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে পরিষদ। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও চলাচলের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশনাও রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করে তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের সহজে শনাক্ত করার জন্য দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দর্শনার্থীদের ভিড়, প্রবেশপথে চাপ কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতা করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমা নিরঞ্জন ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ ও স্থান অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিসর্জন শোভাযাত্রায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে পরিষদ। সম্ভব হলে সন্ধ্যার মধ্যেই বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পূজামণ্ডপে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে গুজব না ছড়িয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো অপরাধে কাউকে জড়িত পাওয়া গেলে নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে বলা হয়েছে। কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতীক। তাই উৎসবকে সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে আয়োজক, দর্শনার্থী, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, সম্প্রীতিময় ও পরিবেশবান্ধবভাবে উদ্‌যাপনের আহ্বান জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২৬ দফা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং ধর্মীয় অনুভূতি, জননিরাপত্তা ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisements