১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

মহাষষ্ঠীর বোধনে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা

Durga-Puja-in-West-Bengal

দেবী দুর্গার বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী তিথিতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিন মহাসপ্তমী তিথি পালিত হবে। এ সময় থেকেই পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা আরও জমে উঠবে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, মহাসপ্তমীতে নয়টি বিশেষ উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি নবপত্রিকা স্নান করিয়ে পূজামণ্ডপে স্থাপন করা হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) উদযাপিত হবে মহাঅষ্টমী। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী সন্ধিপূজা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীতে বিশেষ হোম-যজ্ঞ ও ভোগ নিবেদনের পর বুধবার দর্পণ বিসর্জন ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

সংগৃহীত

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে ঘোড়ায় আগমনকে সামাজিক অস্থিরতা বা ছত্রভঙ্গের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা এবং উৎসব ঘিরে জনপদে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপ সাজানো, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসা ও শঙ্খের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর শরৎকালে মর্ত্যে আবির্ভূত হন। ভক্তরা মনে করেন, দেবী তাঁর সন্তানদের ভয়, দুঃখ, শোক ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ত্রেতাযুগে লঙ্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে রাজা রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী মহামায়ার অকালবোধন ও পূজা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে শরৎকালে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে।

Advertisements

এদিকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সারাদেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Advertisements