দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে তিন্দু সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচল বন্ধ

বান্দরবানের থানচির জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য তিন্দুতে যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। থানচি-আলীকদম সড়কের ২১ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে তিন্দু বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়ক সংস্কার শেষ করে চলাচলের উপযোগী না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল ফয়সালের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সড়কটির বিভিন্ন অংশের বেহাল অবস্থার কারণে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিন্দু বাজারের সংযোগ সড়কে পর্যটকবাহী কোনো যান চলাচল করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার আওতায় মোটরসাইকেলসহ হালকা ও ভারী সব ধরনের যানবাহন রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল ফয়সাল জানান, সংযোগ সড়কটির সংস্কারকাজ এখনও চলমান রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অবস্থা থাকায় পর্যটকেরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ইউএনও। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকেরা আলীকদম হয়ে থানচির তিন্দুতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে না। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে প্রশাসনকে সমস্যায় পড়তে হয়।
দুর্ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা
তিন্দু সংযোগ সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার পেছনে সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে এসেছে। গত ৫ অক্টোবর বিকেলে আলীকদম-তিন্দু সংযোগ সড়কের আগোয়াপাড়া এলাকায় পর্যটকবাহী একটি গাড়ি খাদে পড়ে যায়। এতে চকরিয়ার খুটাখালী এলাকার দুই যুবক নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন। পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সড়কের সংস্কারকাজ চলাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তিন্দু সংযোগ সড়কে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সড়কটি সংস্কার করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করার পরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসনের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।



