২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
ভ্রমণ

কেন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য সুখের শহর লিসবন?

lisbon-20230102134034

ভ্রমণ মানেই শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়; ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে শরীর ও মনকে সতেজ করে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আর রোদ, সমুদ্র, ভালো খাবার ও সবুজ পরিবেশ—সবকিছু একসঙ্গে পেতে চাইলে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।

সংগৃহীত

ভ্রমণবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম বুকরিট্রিটসের সাম্প্রতিক ‘হলিডে হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এ বিশ্বের ৪৭টি জনপ্রিয় পর্যটন শহরের মধ্যে প্রথম হয়েছে লিসবন। ভ্রমণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা বিবেচনায় নিয়েই এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় পরামর্শ দিয়েছেন হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানী ড. নাটালি ড্যাটিলো-রাইয়ান।

শহরগুলোর মূল্যায়নে মোট পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—সূর্যের আলো, ঘুমের পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ, প্রকৃতির উপস্থিতি এবং হাঁটার সুবিধা। এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি গন্তব্যকে ১০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সংগৃহীত

লিসবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি এর প্রচুর সূর্যালোক। বছরে প্রায় ২ হাজার ৮২৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পায় শহরটি। দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতর বা কম্পিউটারের সামনে কাটানো মানুষের জন্য খোলা আকাশ ও প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানোর সুযোগ নিঃসন্দেহে বাড়তি আকর্ষণ।

খাবারের দিক থেকেও পিছিয়ে নেই লিসবন। শহরের প্রায় ১০ শতাংশ রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য পরিচিত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাজা সামুদ্রিক খাবার থেকে শুরু করে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার—বিভিন্ন ধরনের পদ তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। খাবারের বৈচিত্র্য ও মানের কারণে প্যারিস, টোকিও ও নিউইয়র্কের মতো পরিচিত খাদ্যনগরগুলোর সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে শহরটি।

লিসবনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো হাঁটতে হাঁটতে শহর ঘুরে দেখার সুযোগ। শহরটি বেশ কিছু উঁচুনিচু এলাকায় বিস্তৃত হলেও এর রাস্তা ও গলিগুলো তুলনামূলকভাবে ঘনবসতিপূর্ণ ও কাছাকাছি। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় হাঁটার সুযোগ পাওয়া যায়। ত্যাগুস নদীর আশপাশে হাঁটতে হাঁটতে শহরের দৃশ্য উপভোগ করাও পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা হতে পারে।

Advertisements
সংগৃহীত

প্রকৃতির সঙ্গেও লিসবনের দূরত্ব কম। শহরের বাসিন্দাপ্রতি প্রায় ৪৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা রয়েছে বলে সূচকে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ মাদ্রিদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। ফলে শহুরে পরিবেশের মধ্যেও পার্ক ও সবুজ জায়গায় কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।

শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয় সমুদ্রসৈকতও। গণপরিবহনে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে কাসকাইস ও কোস্টা দা কাপারিকার মতো জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় পৌঁছানো যায়। ফলে একই ভ্রমণে শহর, প্রকৃতি ও সমুদ্র—তিন ধরনের অভিজ্ঞতাই নেওয়ার সুযোগ থাকে।

সংগৃহীত

তালিকায় লিসবনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি। প্রতি বাসিন্দার জন্য প্রায় ১২৬ বর্গমিটার সবুজ পার্ক, তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এবং নিরাপদ সড়ক শহরটিকে তালিকায় এগিয়ে রেখেছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো। শহরটির প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ ঘণ্টা সূর্যালোকের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন হ্রদ ও বিনোদনকেন্দ্র।

শীর্ষ ১০-এর তালিকায় ইউরোপের শহরগুলোর আধিপত্য দেখা গেছে। লিসবন, হেলসিংকি ও অরল্যান্ডোর পর চতুর্থ থেকে দশম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে গ্রিসের এথেন্স, স্কটল্যান্ডের এডিনবরা, স্পেনের মাদ্রিদ, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট, নরওয়ের অসলো এবং লিথুনিয়ার ভিলনিয়াস।

সংগৃহীত

শুধু শীর্ষ ১০ নয়, প্রথম ২০-এর তালিকাতেও ইউরোপের একাধিক জনপ্রিয় শহর রয়েছে। এর মধ্যে কোপেনহেগেন, রোম ও জুরিখের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোও জায়গা করে নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, যারা ছুটিতে শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি ভালো খাবার, রোদ, সবুজ পরিবেশ, হাঁটাহাঁটি এবং সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য লিসবন হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ গন্তব্য।

Advertisements