রজনীকান্তের সঙ্গে প্রথম শুটিংয়েই বিপাকে বিদ্যা, কী হয়েছিল সেদিন?

দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে প্রথমবার পর্দা ভাগ করে নিতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। ‘জেলার ২’ সিনেমার শুটিংয়ের প্রথম দিনেই একটি দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে তার। সহ-অভিনেতার তারকাখ্যাতির কারণে বিদ্যা নার্ভাস হয়ে পড়েছেন, এমনটাই ভেবেছিলেন সেটে উপস্থিত অনেকে। কিন্তু অভিনেত্রীর অস্বস্তির কারণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমার একটি দৃশ্যে রজনীকান্তের মুখের দিকে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে হয়েছিল বিদ্যাকে। দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ধারণ করতে একাধিকবার শট দিতে হয় তাকে। পরিচালকের নির্দেশনা মেনে অভিনয় করলেও প্রথম টেকের পর থেকেই অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন তিনি।
নিজের সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বিদ্যা জানান, ধূমপানে অভ্যস্ত হওয়ায় শুরুতে বিষয়টিকে খুব একটা কঠিন মনে হয়নি তার। ভেবেছিলেন, সেটে গিয়ে সহজেই দৃশ্যটি শেষ করতে পারবেন। কিন্তু প্রথম শট দেওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। হাত-পা কাঁপতে শুরু করলে বিব্রত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তার এই আচরণ দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, রজনীকান্তের সামনে অভিনয় করার চাপেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বিদ্যা স্পষ্ট করেন, সুপারস্টারের উপস্থিতি নয়, বরং সিগারেটের নিকোটিনের প্রভাবেই তার এমন শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, পর্দার পেছনের এই অস্বস্তির সঙ্গে রজনীকান্তের তারকাখ্যাতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। অস্বস্তিকর সেই অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি বিদ্যার কাছে বেশ আনন্দের। অভিনেতার ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ তিনি। বিদ্যার কথায়, রজনীকান্ত অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। শুটিংয়ের প্রতিদিনই তিনি বিদ্যার খোঁজখবর নিতেন, যা সহ-অভিনেতা হিসেবে তার প্রতি সুপারস্টারের যত্নশীল মনোভাবের পরিচয় দেয়।
সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্যের ব্যবহার নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেছেন বিদ্যা। তার মতে, গল্পের প্রয়োজনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন দৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবার কাহিনিতে বিশেষ কোনো ভূমিকা না থাকলে তা অপ্রয়োজনীয়ও মনে হতে পারে।
‘জেলার ২’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহের মধ্যেই বিদ্যা বালানের শুটিংয়ের প্রথম দিনের এই অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সাময়িক অস্বস্তিতে পড়লেও সহ-অভিনেতার আন্তরিকতা ও সৌজন্যই শেষ পর্যন্ত তার কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।



