১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

মৃত্যুর চার দিন পর দাফন নাসিমা খানের, জানাজায় ছিলেন না বড় তারকারা

b7106356085e3af9868a91a656df93c6

মৃত্যুর চার দিন পর দাফন করা হয়েছে চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খানকে। তার মরদেহ নেওয়া হয়নি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি)। জানাজার নামাজেও দেখা যায়নি চলচ্চিত্র অঙ্গনের উল্লেখযোগ্য কোনো তারকাকে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রীর শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য ও চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির কয়েকজন প্রতিনিধি।

গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মারা যান নাসিমা খান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান, অভিনেতা আরজু, অভিনেত্রীর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখদের বড় কোনো উপস্থিতি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নাসিমা খানের দুই ছেলে হলেন শাবাব নাসিম রহমান ও নাবিল নাছির রহমান কুশল। তাদের মধ্যে ছোট ছেলে কুশল গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলেকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন নাসিমা খান। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ছোট ছেলের ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিনেত্রীর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। দুই ছেলের অপেক্ষায় নাসিমা খানের মরদেহ চার দিন হিমঘরে রাখা হয়েছিল। পরে বড় ছেলে দেশে ফিরলেও ছোট ছেলে কুশলের আর ফেরা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ছোট ছেলেকে ছাড়াই মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান জানান, দুই ছেলের অপেক্ষায় অভিনেত্রীর মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছিল। বড় ছেলে দেশে ফিরলেও ছোট ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, জানাজার খবর ও পরিস্থিতি সম্পর্কে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত জানানো হয়েছিল। এরপরও বড় তারকাদের কেউ জানাজায় উপস্থিত হননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisements

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ দেখা যায় তাঁকে। এরপর আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়নি এই বর্ষীয়ান শিল্পীকে।

একদিকে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্মৃতি, অন্যদিকে নিখোঁজ ছোট ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা—জীবনের শেষ অধ্যায়ে এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে নাসিমা খানকে। মৃত্যুর চার দিন পর তার দাফন এবং জানাজায় চলচ্চিত্রের বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে প্রয়াত শিল্পীদের প্রতি সহকর্মীদের দায়িত্ব ও সম্মান জানানোর বিষয়টি।

Advertisements