১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

গতকালও ওজন ঠিক ছিল, আজ হঠাৎ বেশি! কেন এমন ওঠানামা?

IMG_6214

সকালে ঘুম থেকে উঠে ওজন মাপার পর দেখলেন, আগের দিনের তুলনায় ওজন বেড়ে গেছে। এতে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে এক রাতের ব্যবধানে ওজন বেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে শরীরে মেদ জমেছে। শরীরে পানির ভারসাম্য, খাবার গ্রহণ, হজমপ্রক্রিয়া ও হরমোনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ওজনের এই ওঠানামা হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের ওজনের পরিবর্তনকে শরীরে চর্বি বাড়া বা কমার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাই ওজন মাপার যন্ত্রে সংখ্যার সামান্য পরিবর্তন দেখেই উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

পানি জমলে বাড়তে পারে ওজন

রাতে ওজন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ শরীরে পানি জমে থাকা। চিকিৎসক নিরাজ কুমারের মতে, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খেলে শরীর সাময়িকভাবে বেশি পানি ধরে রাখতে পারে। রেস্তোরাঁর খাবার, প্যাকেটজাত নাশতা ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব খাবার খাওয়ার পর ওজন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে, যদিও শরীরে মেদ বাড়ে না।

শর্করাজাতীয় খাবারের প্রভাব

ভাত, রুটি, আলু কিংবা অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়ার পরও ওজন বাড়তি দেখা যেতে পারে। শরীর শর্করা থেকে পাওয়া শক্তি গ্লাইকোজেন হিসেবে পেশি ও যকৃতে জমা রাখে। এই গ্লাইকোজেনের সঙ্গে পানি যুক্ত থাকে। ফলে শর্করাজাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীরে পানির পরিমাণ বাড়তে পারে এবং ওজনেও সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

Advertisements

পানি পান ও ঘাম ঝরানোর প্রভাব

শরীরে পানির পরিমাণের পরিবর্তনও ওজনের ওঠানামার একটি কারণ। বেশি পানি পান করলে সাময়িকভাবে ওজন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ব্যায়াম করা, ঘাম ঝরা কিংবা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে ওজন কমে যেতে পারে। এসব পরিবর্তন শরীরের চর্বির পরিমাণের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে না।

হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যও দায়ী

আগের রাতে খাওয়া খাবারের কিছু অংশ পরদিন সকালেও পরিপাকতন্ত্রে থাকতে পারে। ফলে খাবারের ওজন শরীরের মোট ওজনে প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অন্ত্রে মল জমে থাকলেও সাময়িকভাবে ওজন বাড়তে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে বা আশপাশের সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে পানি জমতে পারে। এ সময়ও ওজন কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

ওজন মাপার সময় ও পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ

কখন ও কীভাবে ওজন মাপছেন, তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করে। পোশাকের পার্থক্য, দিনের বিভিন্ন সময়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণ এবং মূত্রথলি খালি করা হয়েছে কি না—এসব কারণে ওজনের সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।

তাই তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ফল পেতে প্রতিদিন সকালে শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং কিছু খাওয়া বা পান করার আগে ওজন মাপার পরামর্শ দেন চিকিৎসক নিরাজ কুমার। প্রতিবার একই ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে ওজনের সামান্য পরিবর্তন সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে হঠাৎ ওজন অনেক বেড়ে গেলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন চলতে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে পা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গের সঙ্গে ওজন বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে থাকা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

এক দিনের ওজনের ওপর নির্ভর না করে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের ওজনের ধারাবাহিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করাই বেশি কার্যকর। এতে শরীরের ওজনের প্রকৃত প্রবণতা বোঝা সহজ হয় এবং সাময়িক ওঠানামাকে মেদ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কাও কমে।

Advertisements