উৎসবের মিষ্টিমুখে থাকুক নতুন স্বাদ, বানিয়ে ফেলুন হেমকণা পায়েস

বাঙালির উৎসবের আয়োজনে মিষ্টিমুখের পর্বে পায়েসের জায়গা বরাবরই বিশেষ। পূজা-পার্বণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—সব ক্ষেত্রেই এই চিরচেনা মিষ্টান্নের কদর আলাদা। তবে পরিচিত পায়েসের স্বাদে যদি একটু নতুনত্ব আনতে চান, তাহলে তৈরি করতে পারেন হেমকণা পায়েস। ঘন দুধ, খোয়া ক্ষীর, আমন্ড, কাজু ও জাফরানের সুবাসে তৈরি এই মিষ্টান্ন স্বাদে যেমন সমৃদ্ধ, পরিবেশনেও তেমন আকর্ষণীয়। বিশেষ করে ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
উৎসবের টেবিলে নতুন কিছু পরিবেশন করতে চাইলে ঘরেই সহজে বানিয়ে নিতে পারেন এই বিশেষ পায়েস। রইল উপকরণ ও প্রস্তুতপ্রণালি।
হেমকণা পায়েস বানাতে যা যা লাগবে
খোয়া ক্ষীর — আধা কাপ
চালের মিহি গুঁড়ো — ৬ টেবিল চামচ
খোসা ছাড়ানো আমন্ড ও কাজুর গুঁড়ো — ৬ টেবিল চামচ
মিহি চিনি — ১ কাপ বা স্বাদমতো
দুধ — ১ লিটার
জাফরান — সামান্য
পানি — প্রয়োজনমতো
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথম ধাপ: মিশ্রণ তৈরি
প্রথমে খোয়া ক্ষীর ও আমন্ড-কাজু আলাদাভাবে মিহি করে গুঁড়ো করে নিন। এবার একটি পাত্রে খোয়া ক্ষীরের গুঁড়ো, বাদামের গুঁড়ো, চালের গুঁড়ো এবং এক টেবিল চামচ চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প পানি দিয়ে মেখে নরম ডো তৈরি করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: হেমকণা তৈরি
তৈরি করা ডো থেকে ছোট ছোট গোলাকার বল বানিয়ে নিন। প্রতিটি বলের গায়ে যেন ফাটল না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। গোলাগুলো মসৃণ হলে রান্নার পর পায়েস দেখতে আরও সুন্দর হবে।
তৃতীয় ধাপ: দুধ ঘন করা
একটি ভারী তলার পাত্রে এক লিটার দুধ নিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটিয়ে নিন। দুধ ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে জ্বাল দিন। দুধের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক হয়ে এলে তাতে বাকি চিনি ও সামান্য জাফরান যোগ করুন। চিনি ভালোভাবে গলে যাওয়া পর্যন্ত নেড়ে নিন।
চতুর্থ ধাপ: গোলাগুলো রান্না করা
এবার ঘন দুধের মধ্যে সাবধানে তৈরি করা গোলাগুলো দিয়ে দিন। কম আঁচে প্রায় পাঁচ মিনিট রান্না করুন, যাতে গোলাগুলো নরম হয়ে যায় এবং দুধের স্বাদ ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় অতিরিক্ত নাড়াচাড়া করবেন না। তাতে গোলাগুলো ভেঙে যেতে পারে।
পঞ্চম ধাপ: ঠান্ডা করে পরিবেশন
গোলাগুলো সেদ্ধ হয়ে গেলে চুলা বন্ধ করে পায়েস ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হওয়ার পর পায়েস আরও ঘন হয়ে আসবে। তাই রান্নার সময় দুধ অতিরিক্ত ঘন করে ফেলার প্রয়োজন নেই। এরপর ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন সুস্বাদু হেমকণা পায়েস। চেনা পায়েসের বাইরে নতুন স্বাদের এই পদ অতিথি আপ্যায়ন কিংবা উৎসবের মিষ্টিমুখে আনতে পারে ভিন্ন মাত্রা। দুধের ঘনত্ব, খোয়া ক্ষীরের সমৃদ্ধ স্বাদ, বাদামের মোলায়েম ভাব আর জাফরানের সুবাস—সব মিলিয়ে হেমকণা পায়েস হয়ে উঠতে পারে আপনার উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ।
এবারের উৎসবে তাই চেনা মিষ্টির পাশাপাশি পরিবেশন করুন নতুন স্বাদের হেমকণা পায়েস। পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করুন ঘরে তৈরি এই সুস্বাদু আয়োজন।



