১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

বদমেজাজি বলে বদনাম? আজ আপনার খিটখিটে স্বভাবেরই উদ্‌যাপন!

photo-1556194205

সব সময় হাসিমুখে থাকা কিংবা সবার সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বলা কি আদৌ সম্ভব? কাজের চাপ, ক্লান্তি, মানসিক অস্থিরতা কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে কখনো কখনো মেজাজ খারাপ হতেই পারে। আর সেই গোমড়ামুখো স্বভাবকেই যদি একটি দিনের জন্য উদ্‌যাপন করা হয়, তাহলে কেমন হয়? অবাক লাগলেও সত্যি, প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’ বা খিটখিটে মেজাজ দিবস।

দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষের বদমেজাজি স্বভাবকে ঘিরে হাসি-ঠাট্টা করা এবং নিজের আবেগকে আরও ভালোভাবে বুঝতে শেখা। তাই যাঁদের মুখে সব সময় হাসি দেখা যায় না, তাঁদের জন্যও দিনটি হতে পারে একটু অন্য রকম। তবে এই উদ্‌যাপনের অর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে বিরক্ত করা নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো বিরক্তিকে হাস্যরসের মাধ্যমে গ্রহণ করা।

খিটখিটে স্বভাবের তারকা অস্কার দ্য গ্রাউচ

খিটখিটে মেজাজের কথা উঠলেই শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের কথা মনে পড়ে অনেকের। ১৯৬৯ সালে আত্মপ্রকাশ করা এই চরিত্রটি তার গোমড়ামুখো আচরণ, অভিযোগ করার অভ্যাস আর অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার জন্য পরিচিত। সবুজ রঙের লোমশ এই চরিত্রের বাস একটি আবর্জনার পাত্রে। আশপাশের নানা বিষয় নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করা এবং আবর্জনার প্রতি বিশেষ ভালোবাসা—এসবই তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার এই অদ্ভুত স্বভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে মজার গান ও নানা গল্প।

তবে অস্কারকে শুধু বদমেজাজি চরিত্র হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তার আচরণের আড়ালেও কখনো কখনো কোমল অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায়। এ কারণেই শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়। অস্কার দ্য গ্রাউচের সঙ্গে গ্রাউচ ডে-র নাম জড়িয়ে গেলেও দিনটির সূচনা হয়েছিল অন্য একটি মজার ঘটনা থেকে।

এক ছাত্রীর ভাবনা থেকে বিশেষ দিনের শুরু

Advertisements

ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে পালনের ধারণার পেছনে রয়েছে এক স্কুলছাত্রীর মজার উদ্যোগ। ১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজ তাঁদের নাতনি মনিকার কাছ থেকে দিনটি উদ্‌যাপনের ধারণা পান।

তখন মিশিগানের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকার এক শিক্ষক ছিলেন বেশ খিটখিটে স্বভাবের। শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। সেই জন্মদিনকে ঘিরেই বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে দিনটিকে ‘গ্রাউচ ডে’ হিসেবে চিহ্নিত করে সে।

একটি ছোট্ট রসিকতা থেকে জন্ম নেওয়া এই ধারণা পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পায়। ধীরে ধীরে দিনটি খিটখিটে মেজাজের মানুষদের নিয়ে মজার ছলে উদ্‌যাপনের উপলক্ষে পরিণত হয়। পরে জনপ্রিয় সংস্কৃতির পরিচিত চরিত্র অস্কার দ্য গ্রাউচের সঙ্গে দিনটির যোগসূত্রও আরও পরিচিত হয়ে ওঠে।

কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন গ্রাউচ ডে?

এই দিন পালনের জন্য খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। চাইলে পরিচিতজনদের সঙ্গে মজার ছলে নিজের গোমড়ামুখো স্বভাব নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সেই মজা যেন কারও ব্যক্তিত্বকে ছোট করা কিংবা কাউকে অপমান করার কারণ না হয়।

দিনটি নিজের অনুভূতি বুঝে নেওয়ারও একটি উপলক্ষ হতে পারে। সব সময় হাসিখুশি থাকার চাপ থেকে বেরিয়ে এসে নিজের ক্লান্তি, বিরক্তি কিংবা মন খারাপের কারণ নিয়ে ভাবতে পারেন। কেন মেজাজ খারাপ হচ্ছে, কোন পরিস্থিতিতে রাগ বাড়ছে—এসব বোঝার চেষ্টা মানসিক সুস্থতার জন্য সহায়ক হতে পারেরাগ বা বিরক্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে সেই অনুভূতি প্রকাশের সময় অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি। অর্থাৎ, মেজাজ খারাপ থাকলেও কাউকে কষ্ট না দিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ফিরে দেখতে পারেন ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর পুরোনো পর্ব

গ্রাউচ ডে-কে আরও আনন্দময় করে তুলতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখে নিতে পারেন ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর পুরোনো পর্ব। বিশেষ করে অস্কার দ্য গ্রাউচের মজার কাণ্ডকারখানা, অভিযোগ করার ধরন এবং আবর্জনার পাত্র ঘিরে তার বিচিত্র জীবন দর্শকদের হাসাতে পারে আজও। অস্কারকে নিয়ে রয়েছে আরও একটি মজার তথ্য। ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর প্রথম মৌসুমে তার গায়ের লোমের রং ছিল কমলা। দ্বিতীয় মৌসুমে তাকে সবুজ রঙে দেখা যায়। গল্পে এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল এভাবে—ছুটিতে গিয়ে কাদামাখা জলাভূমিতে থাকার কারণে তার গায়ের রং বদলে গেছে!

সব সময় হাসিখুশি থাকতেই হবে, এমন নয়

গ্রাউচ ডে-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, মানুষের অনুভূতি সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো আনন্দ, কখনো বিরক্তি, কখনো মন খারাপ—সবই জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তাই সব পরিস্থিতিতে হাসিমুখে থাকার বাধ্যবাধকতা নিজের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনটির আনন্দ খুঁজে নেওয়া যায় নিজের স্বভাবকে একটু হালকাভাবে দেখার মধ্যে, পরিচিত মানুষের সঙ্গে হাসি ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে এবং অন্যের মেজাজও সহানুভূতির সঙ্গে বোঝার চেষ্টায়।

তাই আজ যদি কেউ আপনাকে গোমড়ামুখো কিংবা খিটখিটে বলে, খুব বেশি মন খারাপ করার প্রয়োজন নেই। বরং একটু হেসে বলতে পারেন, আজ তো আপনারই দিন! তবে মনে রাখবেন, গ্রাউচ ডে-র আসল উদ্‌যাপন বদমেজাজি হয়ে ওঠা নয়, বরং নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করে জীবনকে একটু সহজভাবে নেওয়া।

Advertisements