১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ, নারীদের বিজ্ঞান প্রতিভা বিকাশে নতুন প্রতিযোগিতা চালু করল বুরকিনা ফাসো

সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ, নারীদের বিজ্ঞান প্রতিভা বিকাশে নতুন প্রতিযোগিতা চালু করল বুরকিনা ফাসো

দেশব্যাপী রূপচর্চা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে নারীদের মেধা ও প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতে একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার সূচনা করেছে বুর্কিনা ফাসো।

২০২৬ সালের জুনে বুর্কিনা ফাসোর সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলাকালীন সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে।

পরবর্তীতে আগস্ট মাসে ‘হাকিলি মুসো’ নামের একটি প্রতিযোগিতার সূচনা হয়, যার লক্ষ্য ছিল বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের চিহ্নিত করা এবং পুরস্কৃত করা। এই প্রতিযোগিতায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নে প্রতিযোগিতার জন্য ৮৪ জন তরুণী একত্রিত হন, যেখানে সেরাদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়।

সংবাদমাধ্যম ব্রিফলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের প্রত্যেকেই ২০২৬ সালে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট (উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের ডিগ্রি) অর্জন করেছিলেন। প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরুর আগে তারা এক সপ্তাহব্যাপী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন।

প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীরা পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কার।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে, বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করেন।

Advertisements

এই পদক্ষেপ দেশটির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা যে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্যই এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রটিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।

Advertisements