১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

দেয়াল থেকে মুছে ফেলা হলো সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি, আবেগঘন বার্তা বাপ্পা মজুমদারের

images (8)

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন একটি দেয়ালে আঁকা হয়েছিল বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি। তবে পরে সেই প্রতিকৃতি মুছে ফেলা হয়। বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবার এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সঞ্জীব চৌধুরীর দীর্ঘদিনের সহচর ও ব্যান্ড দলছুটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বাপ্পা মজুমদার।

সঞ্জীব চৌধুরীর স্মৃতি ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বাপ্পা লিখেছেন, ‘সঞ্জীব দা, আপনি মানুষের হৃদয়ে। ওটাই সবচেয়ে বড় স্থান।’ তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বার্তা সংগীতাঙ্গনের অনেকের মন ছুঁয়েছে। মন্তব্যের ঘরে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী, গীতিকারসহ অনেকে।

প্রতিকৃতি মুছে ফেলা নিয়ে ক্ষোভ

সেগুনবাগিচায় দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা দেয়ালটি দখলমুক্ত করে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দেয়ালজুড়ে আঁকা হয় বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি। প্রথম ধাপে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়সহ ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের ছবি স্থান পায় সেখানে। পরবর্তী সময়ে নতুন করে যুক্ত করা হয় নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন ও কবি জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি। তবে সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলার ঘটনায় অনেকেই হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জীবনঘনিষ্ঠ গান, ব্যতিক্রমী কথামালা এবং প্রতিবাদী সুরের মধ্য দিয়ে বাংলা গানে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন সঞ্জীব চৌধুরী। তাঁর সৃষ্টিতে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবন, সমাজবাস্তবতা ও সময়ের নানা প্রশ্ন। তাই দেয়াল থেকে তাঁর প্রতিকৃতি সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেক সংগীতপ্রেমীর কাছে কেবল একটি ছবি মুছে ফেলার ঘটনা নয়, বরং প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিকে ঘিরে আবেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

‘নো কমেন্ট’ থেকে হৃদয়ের বার্তা

Advertisements

সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে বাপ্পা মজুমদারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দুজন মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুট। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে তাঁরা শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু স্মরণীয় গান। প্রতিকৃতি মুছে ফেলার ঘটনায় প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বাপ্পা লিখেছিলেন, “সঞ্জীব দা! দাদা গো! আপনার মতো আমিও বলি, ‘নো কমেন্ট’।”

এরপর আরেকটি বার্তায় তিনি সঞ্জীবের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, ‘সঞ্জীব দা, আপনি মানুষের হৃদয়ে। ওটাই সবচেয়ে বড় স্থান।’ বাপ্পার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে এমন এক শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, যাঁর সৃষ্টির আবেদন কোনো দেয়াল বা প্রতিকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভক্তদের কাছে সঞ্জীব চৌধুরীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর গান ও মানুষের মনে গড়ে নেওয়া স্থায়ী জায়গা।

সংগীতাঙ্গনের অনেকেই একমত

বাপ্পা মজুমদারের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সংগীতাঙ্গনের আরও অনেকে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সংগীতশিল্পী নকীব খান, কিশোর দাস, গীতিকবি শেখ রানা ও অনুরূপ আইচসহ অনেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।

সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলার ঘটনাটি নতুন করে সামনে এনেছে শিল্পীদের স্মৃতি সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যায়ন এবং জনপরিসরে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন।

প্রতিকৃতি সরানোর বিষয়ে ডিএসসিসির ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, দেয়ালে যাঁদের প্রতিকৃতি রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরীর সময়ের ব্যবধান অনেক। সেখানে আইয়ুব বাচ্চু ও আজম খানের প্রতিকৃতি না থাকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়েও কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের প্রতিকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আঁকার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে ফেলার ঘটনায় যে আবেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—একজন শিল্পীর অবদান শুধু তাঁর দৃশ্যমান প্রতিকৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। গান, সৃষ্টিকর্ম ও মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়েই শিল্পীরা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকেন। বাপ্পা মজুমদারের বার্তাটিও যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

Advertisements