১২ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

মোটা বলেও কটাক্ষ, রোগা হয়েও সমালোচনা! বদলায়নি সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি

Radhika-oct-three-a_d

বলিউডে অভিনয়ের পাশাপাশি তারকাদের শারীরিক গঠন নিয়েও চলে নানা আলোচনা। কখনো ওজন বেশি হওয়া, আবার কখনো অতিরিক্ত রোগা হয়ে যাওয়া—সমালোচনার যেন শেষ নেই। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেত্রী রাধিকা মদনও। একসময় শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়ে ওজন কমানোর দিকে মনোযোগী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের চেহারায় পরিবর্তন এনেও সমালোচকদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি এই অভিনেত্রী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় যারা রাধিকাকে অতিরিক্ত ওজনের জন্য বিদ্রূপ করতেন, পরবর্তী সময়ে তারাই আবার অতিরিক্ত রোগা হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। অর্থাৎ, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের শরীরে পরিবর্তন এনেও সমালোচনা থেকে মুক্তি মেলেনি তার।

সমালোচনার চাপ সামলাতে গিয়ে একপর্যায়ে অতিরিক্ত ওজন কমানোর প্রচেষ্টা তার শারীরিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব ফেলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে নিজের শরীর ও মানসিক স্বস্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন অভিনেত্রী।

রাধিকা বুঝতে পারেন, অন্যের পছন্দ অনুযায়ী নিজেকে বদলে ফেলার কোনো শেষ নেই। যারা সমালোচনা করতে অভ্যস্ত, তাদের সন্তুষ্ট করাও কঠিন। তাই শারীরিক গড়ন নিয়ে অন্যের মন্তব্যকে নিজের জীবনের নিয়ামক হতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর থেকে নির্দিষ্ট কোনো সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে নিজেকে বিচার করার পরিবর্তে সুস্থ থাকা ও নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।

ছবি: সংগৃহীত

তারকাদের শরীর নিয়ে এত বিচার কেন?

রাধিকা মদনের অভিজ্ঞতা শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; বরং বিনোদনজগতের নারীদের ঘিরে থাকা সৌন্দর্যবিষয়ক সামাজিক চাপেরও প্রতিফলন। পর্দায় উপস্থিতি, পোশাক কিংবা শারীরিক গঠন—প্রায় প্রতিটি বিষয়েই তারকাদের নিয়ে চলে বিচার-বিশ্লেষণ। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণের প্রত্যাশা যেন আরও বেশি।

Advertisements

সম্প্রতি মা হওয়ার পর বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। মাতৃত্বের মতো স্বাভাবিক জীবনপর্বের মধ্য দিয়েও নারীদের শরীরকে যেভাবে জনসমক্ষে বিচার করা হয়, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ব্যক্তিগত জীবন ও শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করার সামাজিক প্রবণতা সম্পর্কে।

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিজের মতো করে

রাধিকা মদনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট ওজন, শরীরের আকৃতি কিংবা বাহ্যিক গড়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের শরীরকে গ্রহণ করার মানসিকতাও ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের সুস্থতা বিসর্জন দেওয়ার চেয়ে নিজের শরীরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক বেশি জরুরি। কারণ, মানুষের পছন্দ বদলাতে পারে, সমালোচনার ধরনও বদলাতে পারে; কিন্তু নিজের শরীর ও মনের প্রতি যত্নশীল থাকার দায়িত্ব নিজেরই।

রাধিকা মদনের অভিজ্ঞতা তাই শুধু ওজন কমানো কিংবা বাড়ানোর গল্প নয়। এটি নিজের শরীর নিয়ে অন্যের মতামতের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাঁচতে শেখারও গল্প।

Advertisements