১২ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

আদালতের নির্দেশে মায়ের দায়িত্ব নিলেন গ্রামপুলিশ ছেলে, চাইলেন ক্ষমা

006b76140161a37ae249da664ca5c412-6acc6575d5ebf

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণ ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গ্রামপুলিশ সাগর হোসেন। আদালতের হস্তক্ষেপে মা-ছেলের বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। নিজের আচরণের জন্য মায়ের পাশাপাশি দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের নির্দেশে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান মা মুন্নি খাতুন ও ছেলে সাগর হোসেনকে আদালতে হাজির করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন এবং মায়ের যথাযথ দেখভাল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর সাগর হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে আর এমন আচরণ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়মিত ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে নিজের কৃতকর্মের জন্য মা ও দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ অক্টোবর। ওই দিন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও সেলিম আহমেদ গ্রামপুলিশ সাগর হোসেনকে তাঁর মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সাগর মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে মাসিক ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

ভিডিওতে সাগরের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই বৃদ্ধা মায়ের প্রতি এমন আচরণের সমালোচনা করেন। ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে, অসহায় মুন্নি খাতুনের দুরবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়লে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান নামে এক চিকিৎসক তাঁর আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে এলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয়। আদালতের নির্দেশনার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত মায়ের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন সাগর হোসেন।

Advertisements

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিত করাও পারিবারিক ও মানবিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Advertisements