১২ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

নারী-শিশুর নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

image-170376-1736081789

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এসব অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, অপরাধের দ্রুত তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং আইন কার্যকর করার মাধ্যমে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তিনি মনে করেন, নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।কন্যাশিশুদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অভিভাবকদের দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। সন্তানদের প্রতি যত্নশীল থাকা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাবা-মায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে নিরাপত্তার অজুহাতে মেয়েদের ঘরে সীমাবদ্ধ রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কন্যাশিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কোনো মেয়ে অন্যায়, নির্যাতন কিংবা হয়রানির শিকার হলে ভয়ে চুপ করে থাকা উচিত নয়। বরং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানাতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Advertisements

কন্যাশিশুদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে মার্শাল আর্ট শেখার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, আত্মরক্ষার কৌশল শেখা মেয়েদের সাহসী করে তুলতে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, নারীদের সাফল্য শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত অর্জন কিংবা পরিবারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দেশের অগ্রগতিও জড়িয়ে রয়েছে। তাই কন্যাশিশুদের বিকাশ, নিরাপত্তা ও সাফল্যের জন্য পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি সচেতন, মানবিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—অনুষ্ঠানে আলোচিত বিষয়গুলো সেই প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

Advertisements