১২ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

নিখোঁজ ছেলের অপেক্ষা আর শেষ হলো না, চলে গেলেন অভিনেত্রী নাসিমা খান

IMG_6069

ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার সন্ধানে দিন কাটছিল ষাটের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নাসিমা খানের। সন্তানকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ছেলের সন্ধানে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ করেছিলেন ক্ষোভ ও হতাশা। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সন্তানের কোনো খোঁজ পেলেন না এই অভিনেত্রী। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান।

চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্ন বিলাশ থেকে নিখোঁজ হন তার ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল। এরপর থেকেই ছেলের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে নিজের উদ্বেগ ও অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।

একটি ভিডিওতে নাসিমা জানিয়েছিলেন, কুশল সাধারণত বাড়িতেই থাকতেন। বাইরে যাওয়া নিয়ে তার কিছু বিধিনিষেধও ছিল। তবে ঘটনার দিন ছেলেকে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে ঘুরে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি।

নাসিমার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন কুশল তাকে বলেছিলেন, ঘরের ভেতরে থাকতে থাকতে তার ক্লান্ত লাগছে। তাই একটু নিচে ঘুরে আসতে চান। এ সময় চা খাওয়ার জন্য মায়ের কাছে ৫০ টাকাও চেয়েছিলেন তিনি। ছেলের আবদারে সেই টাকা দিয়েছিলেন নাসিমা। কিন্তু কুশল যে আর বাড়িতে ফিরবেন না, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

ভিডিওতে নাসিমা আরও জানান, ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না। কুশল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে পরিচিতজন ও আত্মীয়স্বজনের বাসায় খোঁজ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোথাও ছেলের সন্ধান পাননি।

Advertisements

কুশল সেদিন নিজের দুটি মোবাইল ফোনই বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন বলে জানান নাসিমা। ফলে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো উপায়ও ছিল না তার। পরে আশুলিয়া থানায় গিয়ে নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলের সন্ধান না মেলায় পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ ছিল, ছেলেকে খুঁজে বের করার বিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে গেলে সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি। একপর্যায়ে হতাশ হয়ে থানা থেকে ফিরে আসেন তিনি।

ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল নাসিমার। কুশল কোথায় আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্তানের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা অজানাই থেকে গেল তার কাছে।

নাসিমার দেখাশোনা করতেন নুরজাহান বেগম। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী। সাত দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নাসিমা খানের বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলে মায়ের দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি পান তিনি। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া নাসিমাকে সর্বশেষ ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল।

পর্দায় দীর্ঘদিন দর্শককে আনন্দ দিয়েছেন নাসিমা খান। অথচ জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে নিজের ছোট ছেলের সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষাতেই কাটছিল তার দিন। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল না। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিলেন সোনালি যুগের এই অভিনেত্রী।

Advertisements