বই পড়তে বসলেই ঘুম আসে কেন?

পছন্দের বই হাতে নিয়ে পড়তে বসেছেন। গল্পের পরতে পরতে কী ঘটছে, তা জানার আগ্রহও প্রবল। কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পড়তেই চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। একসময় বই বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ছেন। অনেকের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে বই পড়তে বসলে ঘুম যেন আরও বেশি চেপে ধরে। কিন্তু বই পড়তে বসলেই কেন ঘুম পায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। শরীরের ক্লান্তি, আরামদায়ক পরিবেশ, চোখের ওপর চাপ এবং পড়ার বিষয়বস্তুতে আগ্রহের অভাব—সবকিছুই বই পড়ার সময় ঘুম পাওয়ার কারণ হতে পারে।
আরামদায়ক পরিবেশ ও শরীরের ক্লান্তি
বই পড়ার সময় অনেকেই বিছানায় শুয়ে বা আরামদায়ক সোফায় হেলান দিয়ে বসেন। এতে শরীর শিথিল হয়ে আসে। ফলে মস্তিষ্কও বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। বিশেষ করে সারাদিনের কাজ শেষে রাতে বই পড়তে বসলে শরীরের ক্লান্তি ঘুমের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
চোখ ও মস্তিষ্কের ক্লান্তি
বই পড়ার সময় চোখকে একটানা পৃষ্ঠা ও শব্দের ওপর মনোযোগ রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় এভাবে পড়লে চোখে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পড়ার বিষয়বস্তু বুঝতে, তথ্য মনে রাখতে এবং শব্দ থেকে বিভিন্ন দৃশ্য কল্পনা করতে মস্তিষ্ককেও কাজ করতে হয়। দীর্ঘক্ষণ পড়ার ফলে চোখ ও মস্তিষ্কে ক্লান্তি তৈরি হলে বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভূত হতে পারে। এ সময় ঘুমও চলে আসতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বই পড়া চোখের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ পড়ার সময় চোখকে বিরতি দেওয়া জরুরি। এ জন্য প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকা বা চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।
ভরপেট খাওয়ার পর পড়তে বসা
বই পড়ার সময় ঘুম পাওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে খাবার খাওয়ার পর শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই ঝিমুনি আসে। খাবারের পর হজমপ্রক্রিয়া এবং শরীরের বিপাকীয় পরিবর্তনের সঙ্গে এই তন্দ্রাভাবের সম্পর্ক রয়েছে। এ অবস্থায় মনোযোগ ধরে রেখে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তাই রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই পড়তে বসলে ঘুম পাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই ক্লান্ত থাকলে এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হয়।
বইয়ের বিষয়বস্তুতে আগ্রহ না থাকা
কোনো বই পড়ার সময় ঘুম পাওয়ার পেছনে বইটির বিষয়বস্তুও ভূমিকা রাখতে পারে। পছন্দের গল্প বা রোমাঞ্চকর উপন্যাস পড়তে গিয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেগে থাকতে পারেন। কিন্তু একই ব্যক্তি পাঠ্যবই বা একঘেয়ে কোনো বিষয় পড়তে গিয়ে অল্প সময়েই মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
পড়ার বিষয় আকর্ষণীয় না হলে একাগ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়। একঘেয়েমি ও মনোযোগের ঘাটতি থেকে তন্দ্রাভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অনেক শিক্ষার্থী বই খুলেই ঘুম পেতে থাকার অভিযোগ করেন।
পড়তে বসলে ঘুম এড়াবেন যেভাবে
পড়ার সময় ঘুম এড়াতে কয়েকটি অভ্যাস কাজে লাগতে পারে। বিছানায় শুয়ে বা হেলান দিয়ে পড়ার পরিবর্তে সোজা হয়ে চেয়ারে বসে পড়া ভালো। পর্যাপ্ত আলো আছে, এমন জায়গায় পড়তে বসতে হবে। একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট বিরতি নেওয়া এবং চোখকে বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি।
এ ছাড়া রাতের খাবারের পরপরই পড়তে না বসে কিছুটা সময় বিরতি নেওয়া যেতে পারে। পড়ার বিষয়বস্তুতে আগ্রহ ধরে রাখতে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা, গুরুত্বপূর্ণ অংশের নোট তৈরি করা এবং পড়ার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখার চেষ্টা করলেও উপকার পাওয়া যায়।
তবে পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি নিয়মিত অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টিকে শুধু বই পড়ার একঘেয়েমি বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



