৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

সাধারণ ফ্লুও হতে পারে প্রাণঘাতী, কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন

IMG_5933

মৌসুমি ফ্লুকে অনেকেই সাধারণ অসুখ মনে করে অবহেলা করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে ফ্লু নিজে থেকেই সেরে গেলেও কখনো কখনো এটি ভয়াবহ জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিউমোনিয়া, সেপসিস, শ্বাসযন্ত্রের বিকলতা এমনকি মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌যন্ত্রে প্রদাহের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারাসিটামলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ফ্লু শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তখন ফুসফুসে নিউমোনিয়া থেকে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে সেপসিস পর্যন্ত হতে পারে।

ফ্লু থেকে এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং মায়োকার্ডাইটিস বা হৃদ্‌যন্ত্রে প্রদাহও হতে পারে। হাঁপানি, সিওপিডি কিংবা অন্যান্য ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হয়ে রেসপিরেটরি ফেইলিউরের কারণে আইসিইউতেও চিকিৎসা লাগতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হৃদ্‌যন্ত্র বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, হাঁপানি বা সিওপিডির রোগী, অতি স্থূল ব্যক্তি, ক্যানসারে আক্রান্ত এবং গর্ভবতীদের ফ্লু থেকে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন ওষুধ সেবনকারীদেরও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

ফ্লুর সঙ্গে জ্বর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, অতিরিক্ত কাশি ও শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড দুর্বলতা, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অসংলগ্ন আচরণ কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ফ্লু সেরে যাওয়ার সময় আবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, প্রচণ্ড কাশি বা শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়াও নিউমোনিয়া বা অন্য সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

ডায়াবেটিসের রোগীদের অসুস্থতার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। না খেয়ে থাকলে শর্করা কমে যেতে পারে, আবার সংক্রমণের কারণে বেড়েও যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিন বা ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়। পাশাপাশি পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

ফ্লু প্রতিরোধে ভিড় এড়িয়ে চলা, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র স্পর্শ করার পরও হাত পরিষ্কার করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিবছর ফ্লুর মৌসুমের আগে টিকা নেওয়া, বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য, ফ্লুজনিত জটিলতা থেকে সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

Advertisements