৭ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

পরিবার পরিকল্পনায় ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান

1c2d22fd-af8d-4f63-a338-c8314c386398

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে এক বছর মেয়াদি বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে র‍্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক আয়োজনের পাশাপাশি পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই বার্তাকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রচার চালানো হবে। শুধু সচেতনতা তৈরির মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও মানুষের কাছে সরবরাহ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছেন। জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, শুধু প্রচারণা চালালেই হবে না, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সরবরাহ করতে হবে। ট্যাবলেট, কনট্রাসেপটিভসহ পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন উপকরণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনেক সময় কাজ বাস্তবায়নে দেরি হয়। অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব না হলেও এবার নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছরের শুরু থেকে এর অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisements

দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সরকারের অন্যতম দুর্বল ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ খাতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রেও নানা ধরনের বাধা রয়েছে।

দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য এই রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট থাকায় অনেক রোগী সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না।

তিনি জানান, কেমোথেরাপির আটটি ফুল সেট মেশিন নষ্ট ছিল। পাশাপাশি ১৭টি রেডিওথেরাপি যন্ত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে দরিদ্র রোগীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এসব সংকট কাটিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

Advertisements