গ্যাসের সমস্যা কেন বাড়ছে? তালিকা থেকে বাদ দিবেন যেসব খাবার

গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকেরই নিয়মিত ভোগান্তির কারণ। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-মসলা এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার এ সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কিছু সহজপাচ্য খাবার পেটের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
যেসব খাবারে গ্যাস বাড়তে পারে
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার হজমে সময় নেয় এবং অনেকের গ্যাস বা অস্বস্তি বাড়াতে পারে। পরোটা, লুচি, চপ, শিঙাড়া, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বিরিয়ানি ও পোলাওয়ের মতো ভারী খাবার তাই পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আটা-ময়দার খাবারও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তবে গ্লুটেন সবার জন্য সমস্যা তৈরি করে—এমন নয়।
যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের দুধ ও দুধজাত খাবার খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। অতিরিক্ত দুধ-চাও কারও কারও অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।
যেসব খাবার তুলনামূলক সহজপাচ্য
ভাতের সঙ্গে পাতলা মাছের ঝোল, পাতলা ডাল ও হালকা রান্না করা সবজি অনেকের জন্য সহজপাচ্য হতে পারে। লাউ, পেঁপে, চালকুমড়া, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া ও ঢ্যাঁড়স দিয়ে হালকা তরকারি খাওয়া যেতে পারে।
ফলের মধ্যে পাকা পেঁপে, কলা, তরমুজ, বাঙ্গি ও আঙুর অনেকের জন্য সহনীয় হতে পারে। তবে কোন খাবারে সমস্যা হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
টক দইয়ে থাকা জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের পাশাপাশি অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ
গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমিত খাবার খাওয়া, ধীরে খাওয়া এবং নিয়মিত খাবারের অভ্যাস করা ভালো। কোন খাবার খেলে বারবার সমস্যা হচ্ছে, সেটি লক্ষ্য করে খাবারের তালিকা সামঞ্জস্য করাও কার্যকর হতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বুকজ্বালা, পেটে ব্যথা, বমি, ওজন কমে যাওয়া বা পায়খানায় রক্তের মতো উপসর্গ থাকলে শুধু খাবার পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



