উচ্চশিক্ষায় পুরুষদের পেছনে ফেলে এগিয়ে নারীরা, কানাডায় শিক্ষার নতুন চিত্র

শিক্ষার অঙ্গনে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় গত এক দশকে নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে কানাডায়। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে নারীরা এখন পুরুষদের তুলনায় বেশ এগিয়ে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের ৭১ শতাংশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল। এক দশক আগে, ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষা বা কলেজ পর্যায়ের যোগ্যতা অর্জনকারী নারীর হার বেড়েছে ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের অগ্রগতিও হয়েছে, তবে তা নারীদের চেয়ে কম। ২০২৫ সালে একই বয়সসীমার পুরুষদের ৫৭ শতাংশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকে পুরুষদের হার বেড়েছে ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ফলে বর্তমানে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশীয় পয়েন্টে। একসময় যেখানে উচ্চশিক্ষায় পুরুষদের আধিপত্যের ধারণাই বেশি প্রচলিত ছিল, সেখানে কানাডার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নারীদের এই অগ্রগতির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়েও নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অর্থাৎ শুধু উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ নয়, আরও উচ্চতর একাডেমিক পর্যায়েও নারীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। অন্যদিকে পুরুষদের শিক্ষাগত পথ কিছুটা ভিন্ন। তাদের মধ্যে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ফলে নারী ও পুরুষের মধ্যে শুধু শিক্ষার হারেই নয়, শিক্ষার ধরনেও পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

তবে বিষয়টি শুধু নারী-পুরুষের তুলনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কানাডার সামগ্রিক শিক্ষার চিত্রও গত এক দশকে ইতিবাচকভাবে বদলেছে। ২০২৫ সালে দেশটির ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ৬৪ শতাংশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকে সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষা ও কলেজ পর্যায়ের যোগ্যতা অর্জনের হার বেড়েছে ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। শিক্ষায় নারীদের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা সাধারণত পেশাগত দক্ষতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারেও পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়াই শেষ কথা নয়। উচ্চশিক্ষায় নারীদের সাফল্য যেন কর্মক্ষেত্রেও সমান সুযোগে রূপ নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বেতনবৈষম্য কমানো, নেতৃত্বের পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের মতো ক্ষেত্রে তাদের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তাই শুধু নারীদের শিক্ষাগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বদলে যাওয়া একটি সমাজের প্রতিচ্ছবিও। শ্রেণিকক্ষ থেকে গবেষণাগার—শিক্ষার প্রতিটি স্তরে নারীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভবিষ্যতের কানাডাকে আরও ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।



