৫ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

যুক্তরাজ্যে নৌকায় প্রবেশ করা প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে

যুক্তরাজ্যে নৌকায় প্রবেশ করা প্রায় সব নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে

উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

তার অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রগুলোই ঠিক করছে কারা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করবে। ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশ যাত্রাপথে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারে মাহমুদ বলেন, উত্তর ফ্রান্স থেকে যারা ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে অপরাধী ও মানবপাচারকারী চক্রের হাতে। তিনি বলেন, ‘আপনি প্রায় নিশ্চিতভাবেই ধরে নিতে পারেন, উত্তর ফ্রান্সে থাকা প্রত্যেক নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু পুরুষও যৌন নির্যাতন ও হুমকির শিকার হন।

মাহমুদ বলেন, ‘এটি এমন কোনো ব্যবস্থা নয়, যার মাধ্যমে কেউ যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় নেবে এবং শেষ পর্যন্ত এই সমাজের অংশ হয়ে উঠবে।’ তার মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ মানবপাচারকারীদের হাতে থাকা উচিত নয়।

সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনে উগ্র ডানপন্থী বিক্ষোভকারীদের নিয়েও কথা বলেন মাহমুদ। মুখোশ পরা এসব বিক্ষোভকারী তার নীতির বিরোধিতা করে বন্দর বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় এলে আমাকে হত্যা করতে পারে কিংবা দেশ থেকেই বের করে দিতে চাইবে হয়তো।’ শাবানা মাহমুদ জানান, উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো তাকে ‘প্রকৃত ব্রিটিশ’ মনে করে না এবং তিনি মুসলিম হওয়ায় তাকে ঘৃণা করে।

ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন নিয়েও মন্তব্য করেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের ‘ফিলিস্তিনপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার হতে দেখা তার জন্য ‘অস্বস্তিকর’। তবে তিনি বলেন, নিজের মতের সঙ্গে না মিললেও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে নীতি অনুসরণ করতে হবে।

Advertisements

এদিকে, ব্রিটিশ রিফিউজি কাউন্সিলের পরিচালক ইমরান হুসেইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌন সহিংসতার বিষয়টি স্বীকার করাকে স্বাগত জানালেও নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ সংকুচিত করার সমালোচনা করেন। তার মতে, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো নারী ও শিশুরা নিরাপদ পথ না পেলে মানবপাচারকারী ও নির্যাতনকারীদের ঝুঁকিতে পড়বেন। নারীদের সুরক্ষার জন্য তাই নিরাপদ পথ বাড়ানো প্রয়োজন, কমানো নয়।

Advertisements