৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
পরিবেশ

শুষ্কতম মরুভূমিতে ফুলের বিস্ময়, আতাকামা এখন রঙিন বুনোফুলের চাদরে

cl_uvYUwet

দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তের আগমনে রঙিন বুনোফুলে ছেয়ে গেছে চিলির আতাকামা মরুভূমি। পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে এ বছর ফুটেছে লাখ লাখ ফুল। স্থানীয়ভাবে বিরল এ প্রাকৃতিক ঘটনাকে বলা হয় ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ বা ‘ফুলেল মরুভূমি’।

চলতি বছরের শুরুর দিকে এল নিনোর প্রভাবে আতাকামায় হয়েছে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত। সেই বৃষ্টির পানিতে মরুভূমির মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত থাকা অসংখ্য বীজ ও কন্দ অঙ্কুরিত হয়ে ফুলে পরিণত হয়েছে। কিছু বীজ কয়েক দশক ধরে মাটির নিচে সুপ্ত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিলির ন্যাশনাল ফরেস্ট করপোরেশনের (কনাফ) সংরক্ষিত এলাকা বিভাগের প্রধান হোর্হে কারাবান্তেস জানান, এবারের ফুল ফোটা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। আতাকামায় বর্তমানে দুই শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ ও ফুল দেখা যাচ্ছে।

প্রশান্ত মহাসাগর ও আন্দিজ পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত আতাকামা মরুভূমি চিলির উত্তর উপকূল ধরে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। শীত থেকে বসন্তে রূপান্তরের সময় এখানে ফুল ফোটার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। তবে এ বছর মরুভূমির পাথুরে ও বাদামি ভূদৃশ্য বদলে গেছে বিশাল রঙিন ফুলের বিস্তারে।

রেকর্ড বৃষ্টিতে বদলে গেল মরুভূমির চেহারা

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে চিলির কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে বৃষ্টিপাতের হিসাব সংরক্ষণ শুরুর পর কিছু এলাকায় এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড হয়েছে।

আতাকামা কনাফের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান জীববিজ্ঞানী সেসার পিসারো জানান, কোনো কোনো এলাকায় ১৬০, ১৮০ এমনকি ১৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর পেছনে ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

Advertisements

এই বৃষ্টিপাত মরুভূমির মাটিতে থাকা বীজ, কন্দ ও অন্যান্য ভূগর্ভস্থ উদ্ভিদাংশসহ বিভিন্ন জৈব উপাদানকে সক্রিয় করেছে। এর ফলেই একসঙ্গে জেগে উঠেছে বহু বছর ধরে সুপ্ত থাকা উদ্ভিদজীবন।

এ বছর প্রায় ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুলের বিস্তার ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কনাফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পর এবারই সবচেয়ে তীব্র ও বিস্তৃত ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লাল ও হলুদ নানুকা, বেগুনি রক পার্সলেন, সাদা সুসপিরোস, কমলা টেরসিওপেলোসসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলে ঢেকে গেছে মরুভূমির পাহাড়, সমতলভূমি ও গিরিখাত। দেখা মিলছে স্থানীয় পরিচিত উদ্ভিদ ‘গাররা দে লেওন’-এরও।

পিসারোর ভাষ্য, আতাকামার কিছু পাহাড় ও পর্বতমালায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে কোনো সবুজ উদ্ভিদ বা ফুল দেখা যায়নি। এবারের ফুলে ভরা দৃশ্য সেই দীর্ঘদিন সুপ্ত থাকা জীববৈচিত্র্যেরই এক বিরল প্রকাশ।

ফুল দেখতে বাড়ছে পর্যটকের ভিড়

বুনোফুলে ঢাকা আতাকামার এই বিরল দৃশ্য দেখতে চিলির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। বিদেশি পর্যটকদেরও আগ্রহ তৈরি হয়েছে এই প্রাকৃতিক বিস্ময় ঘিরে।

চিলির জাতীয় পর্যটন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দৃশ্য নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে আতাকামা অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফলে বছরের অন্য সময়ের শুষ্ক ও অনুর্বর চেহারার বিপরীতে, এ মৌসুমে আতাকামা পরিণত হয়েছে রঙিন বুনোফুলের এক অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্যে।

Advertisements