২ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

জন্মহার বাড়াতে সরকারি কর্মীদের জন্য ‘ঘটকালি সেবা’ চালু করল সিঙ্গাপুর

IMG_5659

সিঙ্গাপুরে রেকর্ড পর্যায়ে কমে যাওয়া জন্মহার বাড়াতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘ফার্স্টডেট’ নামে একটি ম্যাচমেকিং সেবা চালু করা হয়েছে। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মীরা পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

‘ফার্স্টডেট’ ব্যবহারকারীদের একবারে একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘গেইল-শ্যাপলি স্টেবল ম্যারেজ অ্যালগরিদম’। এই গাণিতিক পদ্ধতি দুই পক্ষের পছন্দের তালিকা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত জুটি তৈরি করে।

সেবাটি ব্যবহার করতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় ডিজিটাল আইডেন্টিটি সিস্টেমের মাধ্যমে লগ-ইন করতে হয়। এরপর তাদের আগ্রহ, অভ্যাস ও জীবনবোধ নিয়ে একটি জরিপে অংশ নিতে হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রচলিত ডেটিংয়ের তুলনায় এটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দেবে।

তবে উদ্যোগটি নিয়ে সিঙ্গাপুরবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খোঁজার বিষয়টিকে অস্বস্তিকর বলে মনে করছেন। আবার অনেকে নতুন এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখতে আগ্রহী।

সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী এক নারী জানান, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মতোই হতে পারে। তবে সরকারি কর্মীদের জন্য হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, এই উদ্যোগ সরকারি চাকরির বাইরে থাকা নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক। ৩৫ বছর পর্যন্ত বয়সসীমা নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisements

এদিকে সিঙ্গাপুরে জন্মহার দ্রুত কমে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩০ হাজারের নিচে নেমে আসে। একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায়। ফলে দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যার দিকে এগোচ্ছে দেশটি।

গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং পরিবারকে সহায়তা এবং সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে দম্পতিদের উৎসাহিত করতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে একটি শিশুর ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত মোট প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে সরকারি উদ্যোগে ম্যাচমেকিংয়ের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত অবিবাহিত নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ (এসডিইউ) গঠন করা হয়েছিল। পরে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকদের মধ্যে বিয়েতে উৎসাহ দিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জন্মহার কমে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ম্যাচমেকিংয়ের উদ্যোগ অন্য দেশেও দেখা গেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত একটি ডেটিং অ্যাপ চালু করে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই অ্যাপ ব্যবহার করে ২৬৫ জোড়া দম্পতি বিয়ে করেছেন।

সিঙ্গাপুরের ‘ফার্স্টডেট’ প্রকল্পটি ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

Advertisements