১ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

ফোন হারিয়ে গেলে ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষায় দ্রুত যা করবেন

resize

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, পরিচিতদের নম্বর, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও এতে থাকে। ফলে ফোন হারিয়ে গেলে শুধু ডিভাইসটি হারানোর ঝুঁকি থাকে না, ব্যক্তিগত তথ্যও অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে পড়তে পারে।

তাই ফোন হারানোর পর কী করবেন, তার পাশাপাশি আগে থেকেই কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে রাখা জরুরি। এতে ডিভাইস হারিয়ে গেলেও তথ্যের ক্ষতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সংগৃহীত

শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন

ফোনের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হলো স্ক্রিন লক। এমন পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, যা অন্য কেউ সহজে অনুমান করতে না পারে।

জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বরের অংশ, ১২৩৪ কিংবা ০০০০-এর মতো সহজ পিন এড়িয়ে চলুন। ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলকের সুবিধা থাকলে সেটিও সক্রিয় করতে পারেন। তবে এর পাশাপাশি শক্তিশালী পিন বা পাসকোড রাখাও জরুরি।

নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন

ফোন হারিয়ে গেলে নতুন ডিভাইস কেনা সম্ভব হলেও ফোনের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবসময় উদ্ধার করা যায় না। ছবি, ভিডিও, কনটাক্ট, নথি কিংবা কাজের ফাইল হারিয়ে গেলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

এ কারণে নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়ার অভ্যাস করুন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন ব্যাকআপ সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। আইফোনে আইক্লাউডেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের আলাদা কপিও নিরাপদ জায়গায় রাখা ভালো।

Advertisements

লক স্ক্রিনে বিকল্প যোগাযোগের তথ্য দিন

কেউ হারানো ফোনটি খুঁজে পেয়ে ফেরত দিতে চাইলে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকা দরকার। এজন্য লক স্ক্রিনে একটি বিকল্প ফোন নম্বর বা ছোট বার্তা রাখা যেতে পারে।

তবে এখানে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ফোন ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে বাসার ঠিকানা বা অন্য সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া উচিত নয়।

জরুরি নম্বর আলাদা করে সংরক্ষণ করুন

ফোন হারানোর পর নিজের কনটাক্ট লিস্টে থাকা নম্বরগুলোতে সহজে প্রবেশ করা যায় না। তাই পরিবারের সদস্য, মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নম্বর ফোনের বাইরে অন্য কোথাও লিখে রাখা ভালো।

এতে ফোন হারানোর পর দ্রুত সিম বন্ধ করা, ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

ফোন শনাক্ত করার সুবিধা সক্রিয় রাখুন

ফোন হারানোর পর সেটি কোথায় আছে তা শনাক্ত করার সুবিধা থাকলে ডিভাইসটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। পাশাপাশি দূর থেকে ফোন লক করা বা প্রয়োজন হলে সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থাও করা যায়।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে গুগলের Find Hub এবং আইফোনে Find My এ ধরনের কাজে ব্যবহার করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোন হারানোর পর এসব সুবিধা নতুন করে চালু করার সুযোগ থাকে না। তাই আগে থেকেই সেটিংস পরীক্ষা করে ফিচারগুলো সক্রিয় করে রাখা উচিত।

ফোন হারানোর পর দেরি না করে ব্যবস্থা নিন

ফোন হারিয়ে গেলে প্রথমেই ডিভাইসটি শনাক্ত বা লক করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম বন্ধ করুন। ফোনে ব্যাংকিং, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট লগইন করা থাকলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করাও জরুরি হতে পারে।

বিশেষ করে ফোনটি চুরি হয়েছে বলে মনে হলে নিজে ঝুঁকি নিয়ে অপরিচিত স্থানে গিয়ে ফোন উদ্ধারের চেষ্টা না করে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া নিরাপদ।

স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। তাই ফোন হারানোর পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে হারানোর আগেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি রাখা বেশি কার্যকর। শক্তিশালী লক, নিয়মিত ব্যাকআপ এবং ডিভাইস-ট্র্যাকিং সুবিধা চালু থাকলে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

Advertisements