মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযান, স্থানীয় এমপি হিসেবে না জানানোয় জামায়াত আমিরের বিস্ময়

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ঘিরে হকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে সমন্বয়ের প্রশ্ন। নিজের সংসদীয় এলাকায় এমন অভিযান চালানোর আগে তাকে অবহিত না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া তাকে বিস্মিত করেছে। তার ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আগে আলোচনা হলে সংঘাত এড়িয়ে আরও কার্যকর একটি সমাধান বের করা সম্ভব ছিল।
মিরপুর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের গাড়ি ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত এবং অগ্নিসংযোগের খবরও এসেছে। শফিকুর রহমানের মতে, মিরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকায় জনগণের জীবনযাত্রা ও সুবিধা-অসুবিধার সঙ্গে যুক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল, যেখানে একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন থাকবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অযথা ক্ষতির মুখে পড়বেন না।
উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, সমস্যাটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন জামায়াতের আমির। তার বক্তব্য, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সেখানে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, একদল অসাধু ব্যক্তি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা বার্ষিক ভিত্তিতে অর্থ নিয়ে সেখানে ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপরও পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান মনে করেন, বিচ্ছিন্নভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা এবং নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল—দুই দিকই বিবেচনায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় রাখা হলে পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তার ভাষায়, এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে এবং তাকে সম্পৃক্ত করা যেত।
তবে সংঘাতের মধ্যে উত্তেজনা না বাড়িয়ে সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তার মতে, সমস্যার সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক পথে—কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।



