৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা

45311

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে এবার চাকরিজীবীদের জন্য আসছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়িয়ে আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন চাকরিজীবীরা। ফলে পূজার আনন্দের সঙ্গে মিলবে লম্বা ছুটির আমেজও।

কীভাবে মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি?

সরকারের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে রয়েছে সাধারণ ছুটি। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নতুন করে নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবীরাও কি ছুটি পাবেন?

এবারের ছুটি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবরের ছুটিটি জাতীয় ছুটি হিসেবে কার্যকর হলে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিসই এর আওতায় থাকবে।

অর্থাৎ সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসও বন্ধ থাকবে। বেসরকারি ব্যাংক, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হবে।
তবে ছুটি মানেই সব ধরনের সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে—এমন নয়।

Advertisements

জনজীবনের জন্য জরুরি সেবাগুলো সাধারণত ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনব্যবস্থার কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনসহ জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও চালু থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আর আদালতের কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

সাধারণ ছুটি আর নির্বাহী আদেশের ছুটি—পার্থক্য কোথায়?

সরকারি ছুটির তালিকায় সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে ছুটি—দুই ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে। নাম কাছাকাছি হলেও দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে।

সাধারণ ছুটি মূলত জাতীয় বা ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও উৎসব উপলক্ষে নির্ধারিত হয় এবং তা সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বিজয়া দশমী, বুদ্ধ পূর্ণিমা, বড়দিন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, মহান বিজয় দিবস এবং মে দিবস—এ ধরনের দিন সাধারণ ছুটির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সরকার প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে। সাধারণত সরকারি, আধা সরকারি, সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের ছুটির আওতায় থাকেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাহী আদেশে দেওয়া ছুটির প্রজ্ঞাপনেও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন ও বিধিমালা রয়েছে, তারা নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একইভাবে অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষিত প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

আছে ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থাও

সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের ছুটির বাইরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রয়েছে ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থাও। নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে একজন কর্মচারী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন। এ জন্য বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। প্রয়োজন হলে সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়েও ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কোন ধর্মের কোন কোন উৎসবে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়া যাবে, তা প্রতিবছরের সরকারি ছুটির পঞ্জিকায় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি হলে দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে। আর সেই ছুটি কার্যকর হলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার আনন্দের সঙ্গে দীর্ঘ ছুটির সুযোগও পাবেন চাকরিজীবীরা।

Advertisements