৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

আপসের পর জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

Untitled-1-20260921064452-20260930103100

আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হলেও জামিন পাননি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তবে নারী আসামি হিসেবে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেয়েছেন।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এই মামলায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হন মরিয়মের বাবা ও মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ। সেখানে তিনি আসামিপক্ষের সঙ্গে আপসের কথা জানিয়ে হলফনামা দেন। বাদী আদালতকে জানান, গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনো আপত্তি নেই। আদালত তার জবানবন্দিও গ্রহণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। সেই আপসের ভিত্তিতেই কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে বাদী নিজে উপস্থিত হয়ে দুই আসামির জামিনে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। তবে আদালত গাজী নজরুলের জামিনের বিষয়ে তখনও আদেশ দেননি।

এদিকে, মামলার তদন্তে উঠে আসা কিছু তথ্য ঘিরে এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটের পারিবারিক পরিস্থিতিও। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত সোমবার গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ আদালতকে আরও জানিয়েছিল, মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য মিলেছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় পরে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা আপস-মীমাংসার কথা জানিয়ে জামিনে আপত্তি না থাকলেও, আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে।

Advertisements
Advertisements