৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি সংগীতশিল্পীকে ৭৪ দোররার সাজা বহাল

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি সংগীতশিল্পীকে ৭৪ দোররার সাজা বহাল

হিজাব না পরে গান পরিবেশন করায় ইরানের জনপ্রিয় এক নারী সংগীতশিল্পীকে দেওয়া ৭৪টি দোররা মারার সাজা বহাল রেখেছেন দেশটির একটি আপিল আদালত। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শুনানি ছাড়াই নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখা হয়েছে বলে আইনজীবীদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। ২৯ বছর বয়সী ওই সংগীতশিল্পীর নাম পারাস্তু আহমাদি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক কনসার্টে হিজাব ছাড়া স্লিভলেস পোশাক পরে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি।

ইরানি আইনে নারীদের প্রকাশ্যে গান গাওয়া নিষিদ্ধ এবং নারীদের জন্য হিজাব ও শালীন পোশাক পরার কঠোর বিধান রয়েছে। আহমাদির সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা লাখ লাখ দর্শক দেখেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই ইরানের বিচার বিভাগ এটিকে ‘আইনি ও সাংস্কৃতিক বিধিমালার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে।

সংগৃহীত

গত জুনে কোম প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত আহমাদি এবং তার ব্যান্ডের আট সদস্যকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে জনশালীনতা ভঙ্গের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আহমাদিকে ৭৪টি দোররা মারার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য সব ধরনের অডিও-ভিজ্যুয়াল কাজ এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে গত শুক্রবার কোনো শুনানি ছাড়াই তা খারিজ করে দেওয়া হয়।

আহমাদির একজন আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এই কনসার্টের আয়োজন কোনো অপরাধই ছিল না। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা বা লঘুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিচারিক আদালত সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি চাপিয়ে দিয়েছিলেন। আপিল আদালত কোনো শুনানি গ্রহণ করেননি এবং আগের রায়ই বহাল রেখেছেন। মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটায়, সেই ভীতি তৈরি করতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে এই সাজার ঘটনায় ইরানজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। নির্বাসিত জনপ্রিয় ইরানি গায়িকা গুগুশ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘এই অন্ধকার দিনগুলো শেষ হোক, নারীরা যেন তাদের জীবন ও পোশাকের স্বাধীনতা ফিরে পান।’ সংহতি প্রকাশ করে খ্যাতিমান সংগীতজ্ঞ হোসেইন আলিজাদেহ বলেন, তিনি আহমাদির হয়ে নিজ শরীরে দোররা নিতে রাজি আছেন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সাজাকে ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

Advertisements