২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

১০ বছর পর বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট থেকে বাদ ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’

IMG_5532

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা দুটি আপাতত আর প্রদর্শন করা হচ্ছে না। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক তানভীর মোকাম্মেলও ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত ‘লালসালু’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ অনেকে। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবী।

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে চলচ্চিত্র সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, তানভীর মোকাম্মেলের বেশ কয়েকটি সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল। তবে প্রায় দুই মাস আগে তাঁদের জানানো হয়, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আপাতত আর প্রদর্শন করা হবে না।

কাজী রিটনের ভাষ্য, বিমান কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছে, সিনেমা দুটি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রদর্শিত হয়েছে। তাই আপাতত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আবার সিনেমা দুটি প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বিমানের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট ব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর সিনেমা, টিভি শো ও অডিওর তালিকা পরিবর্তন করা হয়।

তিনি বলেন, লাইসেন্স চুক্তি, উড়োজাহাজের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ বিমান নিজে প্রদর্শিত সিনেমা বা অনুষ্ঠানগুলোর মালিক নয়; মিডিয়া ব্রোকার ও কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদর্শনের স্বত্ব নিয়ে এসব কনটেন্ট দেখানো হয়।

Advertisements

নির্দিষ্ট সময়ের লাইসেন্স শেষ হলে কিংবা নতুন কনটেন্ট যুক্ত করার প্রয়োজন হলে পুরোনো কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হয়। কারণ উড়োজাহাজের ফিজিক্যাল সার্ভারে সীমাহীন মিডিয়া সংরক্ষণের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য বিনোদনের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতেও নিয়মিতভাবে পুরোনো সিনেমা ও অনুষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়।

বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সরিয়ে ফেলার বিষয়টি কোনো বিশেষ কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টের নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সিনেমা দুটি আপাতত প্রদর্শন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Advertisements