২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

যে কোণ থেকে গোল করা ‘অসম্ভব’, সেখানেই মেসির জাদু

মেসি

ফুটবলে কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলো দেখার পর শুধু একটি কথাই মনে আসে—এটা কি সত্যিই সম্ভব? লিওনেল মেসির পায়ে বল থাকলে এমন প্রশ্নের উত্তর বারবারই ‘হ্যাঁ’ হয়ে যায়। বয়সের ঘড়ি ৩৯ ছুঁলেও তাঁর পায়ের জাদু যে এতটুকু কমেনি, তারই আরেকটি প্রমাণ মিলল মেজর লিগ সকারের ম্যাচে।

কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে এমন এক ফ্রি-কিক গোল করেছেন মেসি, যে জায়গা থেকে অধিকাংশ খেলোয়াড়ের প্রথম ভাবনা হতে পারত সতীর্থদের উদ্দেশে বল বাড়ানো। কিন্তু মেসি বেছে নিলেন সরাসরি গোলের পথ। আর সেই সিদ্ধান্তই মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিল ম্যাচের চিত্র।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে কলম্বাসকে এগিয়ে দেন জোসেফ মার্তিনেজ। পাঁচ মিনিট পরই অবশ্য মেসির জাদুতে ম্যাচে ফেরে ইন্টার মায়ামি।
৩৩ মিনিটে ডান প্রান্তের টাচলাইনের একেবারে কাছাকাছি জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। গোলের জন্য জায়গাটি ছিল ভীষণ কঠিন। তবু ক্রস না করে সরাসরি শট নেন মেসি। বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকে বলটি মানবদেয়াল এড়িয়ে উড়ে যায় দূরের পোস্টের ওপরের কোণে। গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্টের দেখার মতো কিছুই করার ছিল না।

এক মুহূর্তে ১-১। আরেকবার প্রমাণ হলো, মেসির কাছে ‘অসম্ভব’ বলে যেন কিছু নেই। তাঁর এই গোলটি ছিল ক্যারিয়ারের ৭৬তম সরাসরি ফ্রি-কিক গোল। ফলে ফ্রি-কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী মার্সেলিনো ক্যারিওকার ৭৮ গোলের আরও কাছে চলে গেলেন তিনি।

তবে মেসির ব্যক্তিগত ঝলকানি শেষ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর ছিল ১-১। মনে হচ্ছিল, দুই দলই হয়তো এক পয়েন্ট করে নিয়ে মাঠ ছাড়বে। কিন্তু নাটকের তখনও শেষ হয়নি।

যোগ করা সময়ের শেষদিকে কলম্বাসের আক্রমণ থেকে পাওয়া বলের রিবাউন্ড কাজে লাগিয়ে জাল খুঁজে নেন জামাল থিয়ারে। ৯০+৮/৯ মিনিটের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

Advertisements

ফলে রাতটি মেসির জন্য হয়ে থাকল এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের গল্প। একদিকে প্রায় অসম্ভব কোণ থেকে করা চোখধাঁধানো গোল, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের হারে তিন পয়েন্ট হাতছাড়া। দল হারলেও মেসির সেই ফ্রি-কিকের জাদু অবশ্য থেকে গেল ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হিসেবেই।

বয়স বাড়ছে, ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে—তবু বল পায়ে মেসি যখন এমন কোনো জায়গায় দাঁড়ান, যেখানে অন্যরা সম্ভাবনা খোঁজেন না, তখনই ফুটবল আবার মনে করিয়ে দেয় কেন তাঁকে এত বছর ধরে ‘জাদুকর’ বলা হয়।

Advertisements